কুষ্টিয়া ও রাবিতে হামলার নিন্দা ১১ দলের, ৩১ অক্টোবর লংমার্চ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৬ বিকাল
  • ৩১৬৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানো এবং রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেছে জোটটি।

কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায়ও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ১১ দল। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

বৈঠকে আগামী ৩১ অক্টোবর সাত দফা দাবিতে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, এর রুট, সমাবেশ ও পথসভা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

বায়তুল মোকাররম থেকে কুষ্টিয়া

গোলাম পরওয়ার জানান, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী জনসভার মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। সেখানে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। সকাল ৮টায় পদ্মা সেতু হয়ে মাওয়া সড়ক দিয়ে লংমার্চের গাড়িবহর শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট, খুলনা ও রূপসা ব্রিজ হয়ে যশোর ও ঝিনাইদহ পেরিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হবে।

রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পথসভাগুলোর সম্ভাব্য সময় ও স্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, সকাল ৯টার দিকে জাজিরা অথবা শরীয়তপুরের নাওডোবায় প্রথম পথসভা হবে। এরপর বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাটাখালী চার রাস্তার মোড়, দুপুরে খুলনা মহানগরীর বাবরি চত্বর, খুলনার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের চাচড়া মোড় এবং মাগরিবের সময় ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাত দফা দাবিতে কর্মসূচি

১১ দলের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কারের রায় উপেক্ষা না করে জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার; জুলাই গণহত্যার অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা; বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করা।

এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা বন্ধ, প্রশাসন, শিক্ষা ও সামাজিকসহ সব ক্ষেত্রে সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণ বন্ধ এবং দেশজুড়ে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবি রয়েছে।

কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসন, পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা, সড়ক পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের যেকোনো উসকানির মুখে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দেন তিনি।

ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়ক সংস্কারের দাবি

আগামী ২৫ দিনের মধ্যে ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কগুলো সংস্কারের জন্য সড়ক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।

সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী কোনো দল এ দাবি করতে পারে না। এমন দাবি করা হলে তা জুলাই সনদের সঙ্গে বেইমানি হবে।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সহযোগিতায় ১১ দলের নেতারা অংশ নেন।

এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মো. মোবারক হোসাইন, এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বিডিপির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতারী এবং খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad