ধর্মের পরিচয় নয়, নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ দুপুর
  • ১৬৬৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং মানুষ ও দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আসনটির আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।

অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার ও প্রাপ্য রয়েছে, সরকারপ্রধান হিসেবে তা নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে নিজের ক্ষমতার মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তা থেকে সদিচ্ছার প্রমাণ পাওয়া যায়। নাগরিকদের কল্যাণে আরও কিছু বিষয়ে সরকার কাজ করার চেষ্টা করছে।

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ

মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।

তারেক রহমান বলেন, জাতির সংকটময় সময়ে যখন ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে বিবেচনা করা হয়নি, তখন অন্য ক্ষেত্রেও ধর্মকে বিবেচনায় আনার সুযোগ নেই। সবাই মিলে দেশ স্বাধীন করেছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও অংশ নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ তাঁকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

সরকারের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন না। তাঁদের মতে, বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভুল করেননি—সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে।

দুর্গাপূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

সভায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাসসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর, ১২ অক্টোবর ২০২৬।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad