সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণসংক্রান্ত সতর্কতা জারি করেছে।
রিয়াদ বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার পরামর্শঅস্ট্রেলিয়ার বৈদেশিক ও বাণিজ্য বিভাগ নাগরিকদের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এড়িয়ে চলতে বলেছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরে যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে দেশটি।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর এবং নাজরান, জাজান ও আসির প্রদেশে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সতর্কতাএর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ইরান ও হুথি বিদ্রোহীদের হামলার হুমকির কথা উল্লেখ করে সৌদি আরবে ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে নাগরিকদের পরামর্শ দেয়।
কানাডার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সও সৌদি আরবের যেকোনো স্থানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সৌদি আরবে অবস্থানরত নাগরিকদের দেশটি ছেড়ে যাওয়ার এবং নতুন করে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তা বাতিল করার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জেদ্দা ও দাম্মাম শহরে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলেছে। মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত না করার পরামর্শও দিয়েছে দেশটি।
এক সপ্তাহে বিমানবন্দরে একাধিক হামলাপ্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সপ্তাহেরও কম সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে অন্তত পাঁচটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রোববার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন।
এর আগের দিন শনিবার একই বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। প্রতিবেদনটিতে ঘটনাটিকে গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববারের হামলার দায় কেউ স্বীকার না করলেও এর আগের চারটি হামলার দায় হুথি বিদ্রোহীরা স্বীকার করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
পরিস্থিতির অবনতি এবং নতুন হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ সতর্কতা জারির ফলে সৌদি আরবে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নিজ নিজ দেশের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর, আন্তর্জাতিক ডেস্ক; প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক