দিল্লিতে ১৩৩ ধারা জারির অর্থ কী, কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে প্রশাসন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০১ দুপুর
  • ১৫২৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে জননিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে ফৌজদারি আইনের বিভিন্ন বিধান প্রয়োগ করা হয়। এর মধ্যে পুরোনো ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৩৩ ধারা জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর উপদ্রব দূর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জনচলাচলে বাধা, বিপজ্জনক স্থাপনা কিংবা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা কার্যক্রম বন্ধে এ ধারার আওতায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে।

তবে ১৩৩ ধারার উদ্দেশ্য শুধু বিক্ষোভ বা জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করা নয়; বরং জনস্বার্থবিরোধী উপদ্রব দূর করে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা।

১৩৩ ধারায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়

ভারতের পুরোনো ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট জনসাধারণের চলাচল বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি দূর করতে শর্তসাপেক্ষ আদেশ দিতে পারেন। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৫২ ধারায় এ-সংক্রান্ত অনুরূপ বিধান রাখা হয়েছে।

এই বিধানের আওতায় জনসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তা বা স্থানে বেআইনি বাধা ও উপদ্রব সৃষ্টি হলে তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া যায়। কোনো ব্যবসা বা পেশার কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলে সেটি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের আদেশও দেওয়া সম্ভব।

এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন নির্মাণকাজ বন্ধ করা, ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন ভবন বা স্থাপনা মেরামত কিংবা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া এবং বিপজ্জনক কূপ, গর্ত বা প্রাণীর কারণে মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কীভাবে জারি হয় আদেশ

পুলিশের প্রতিবেদন কিংবা অন্য কোনো তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট এ ধরনের আদেশ দিতে পারেন। আদেশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপদ্রব দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদেশের সঙ্গে একমত না হলে নির্ধারিত সময় ও স্থানে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পান। একই সঙ্গে আদেশটি চূড়ান্ত করা উচিত নয় কেন, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর সুযোগও রয়েছে।

অর্থাৎ, এ বিধান মূলত সম্ভাব্য ক্ষতি প্রতিরোধ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার আইনি ব্যবস্থা।

১৩৩ ও ১৪৪ ধারার মধ্যে পার্থক্য

১৩৩ ও ১৪৪ ধারার উদ্দেশ্য এক নয়। পুরোনো সিআরপিসির ১৩৩ ধারা মূলত জনউপদ্রব দূর করার জন্য ব্যবহৃত হতো। অন্যদিকে, ১৪৪ ধারা জরুরি পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বিপদ, সহিংসতা বা শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা মোকাবিলায় নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতা দিত।

ভারতে নতুন বিএনএসএস কার্যকর হওয়ার পর পুরোনো সিআরপিসির ১৪৪ ধারার সমতুল্য বিধান হয়েছে বিএনএসএসের ১৬৩ ধারা। একইভাবে, জনউপদ্রব প্রতিরোধে পুরোনো ১৩৩ ধারার অনুরূপ বিধান রয়েছে নতুন আইনের ১৫২ ধারায়।

তাই দিল্লিতে ১৩৩ ধারা প্রয়োগের অর্থ সব ধরনের বিক্ষোভ বা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা নয়। বরং পরিস্থিতি ও আইনের আওতা অনুযায়ী জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর উপদ্রব দূর করতে প্রশাসন এ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad