সার ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জামায়াতের

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ দুপুর
  • ৪৬৫০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে সারসংকট এবং সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অর্থ লেনদেন ও দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকেরা সার পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, জেলা পর্যায়ের কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় সদস্য মনোনয়ন এবং অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়ার কারণে বিতরণব্যবস্থায় অনিয়ম তৈরি হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, দিনাজপুর ও রংপুরের বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় প্যাডে দেওয়া তালিকা এবং অর্থ লেনদেনের ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে। এক এলাকার বাসিন্দাকে অন্য এলাকায় ডিলারশিপ দেওয়া, পূর্বঅভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ পাওয়া, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির ডিলারশিপ পাওয়া এবং ভুয়া গুদাম ও চুক্তিনামা ব্যবহার করে লাইসেন্স নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ডিলার নিয়োগের তালিকায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের নাম একসঙ্গে পাওয়া গেছে বলে তাঁদের দাবি।

১৪ সংসদ সদস্যের এলাকায় সারসংকটের দাবি

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গবেষণামূলক প্রতিবেদন প্রকাশকারী ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর অনুসন্ধানে ১৪ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকায় তীব্র সারসংকটের তথ্য উঠে এসেছে। এতে কৃষকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, সরকারের অব্যবস্থাপনা, ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, কালোবাজারে সার বিক্রি ও চোরাচালানের কারণে দেশে কৃত্রিম সারসংকট তৈরি হয়েছে। সারসংকট নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির অসংগতি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ও সারসংকট নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করা হয়েছে।

ছয় দফা দাবি জামায়াতের

সার ডিলার নিয়োগের অভিযোগ তদন্তসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দাবিগুলো হলো—

১. ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

২. ডিলার নিয়োগের যোগ্যতার মানদণ্ড, তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি প্রকাশ করা।

৩. ডিলারশিপ দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

৪. সারসংকট নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতির অসংগতি যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা।

৫. ডিলার নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে এবং তদন্তের অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে বাধ্য করা।

৬. প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক বক্তব্য বা ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে দায়ী না করে অভিযোগগুলো তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা।

সরকারের নীতির সমালোচনা

মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, গত ছয় থেকে সাত মাসে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয়করণ ও দুর্নীতি বেড়েছে এবং মন্ত্রীদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য সারসংকটের প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করছে। নিজেদের ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা বন্ধ করে জনভোগান্তি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দমন-পীড়নমুক্ত মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিরোধী দলকে সঙ্গে না নিয়ে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে গণভোটে নির্ধারিত আইনি কাঠামোর আলোকে সংবিধান সংশোধন এবং আগামী সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। একই সঙ্গে সার, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিজনিত জনভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. আব্দুর রব, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও ড. রেজাউল করিম এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারও ছিলেন।

তথ্যসূত্র: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্য ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad