নারী কেন পুরুষের চেয়ে বেশি কথা বলে? বেরিয়ে এলো চমকপ্রদ তথ্য

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি : এআই দিয়ে তৈরি
নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি কথা বলেন—এমন ধারণা দীর্ঘদিনের। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সব বয়সে এ পার্থক্য দেখা যায় না। বরং ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নারীরা পুরুষদের তুলনায় গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২৭৫টি শব্দ বেশি বলেন। সময়ের হিসাবে এই ব্যবধান দিনে প্রায় ২০ মিনিটের কথোপকথনের সমান।

অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট কলিন টিডওয়েলের ভাষ্য, নারীদের বেশি কথা বলার প্রচলিত ধারণাটি বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করতেই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে।

১৪ বছর ধরে তথ্য সংগ্রহ

২০০৭ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, নারী ও পুরুষ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬ হাজার শব্দ বলেন। নতুন গবেষণাটির পরিধি ছিল আরও বিস্তৃত। চারটি দেশের ২ হাজার ১৯৭ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে ১৪ বছর ধরে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের শরীরে বিশেষ ইলেকট্রনিক রেকর্ডিং ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের কথোপকথনের ছোট ছোট অডিও ক্লিপ সংগ্রহ করা হয়। পরে মোট ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩০টি অডিও ক্লিপ পরিসংখ্যানগত মডেলের সাহায্যে বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নারীরা গড়ে প্রতিদিন পুরুষদের চেয়ে ৩ হাজার ২৭৫টি শব্দ বেশি ব্যবহার করেন। তবে জীবনের অন্যান্য বয়সপর্বে নারী ও পুরুষের কথা বলার পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

ব্যবধানের কারণ স্পষ্ট নয়

গবেষকেরা জানিয়েছেন, মধ্যবয়সে নারীদের বেশি কথা বলার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ গবেষণার তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বের কারণে মায়েদের ছোট শিশুদের সঙ্গে বেশি কথা বলার বিষয়টি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সামাজিক বাস্তবতায় সন্তান পালনের বড় অংশের দায়িত্ব নারীদের ওপর থাকাও এর একটি কারণ হতে পারে।

গবেষকদলের মনোবিজ্ঞানী ম্যাথিয়াস মেহল বলেন, পার্থক্যটির পেছনে হরমোনের মতো জৈবিক কারণ থাকলে বয়ঃসন্ধির পরপরই নারী ও পুরুষের মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা যাওয়ার কথা। আবার সামাজিক পরিবর্তনই প্রধান কারণ হলে বয়স্কদের মধ্যেও ব্যবধান বাড়ার প্রত্যাশা থাকত। গবেষণায় এমন প্রবণতা দেখা যায়নি।

ব্যক্তিভেদে পার্থক্য অনেক বেশি

গবেষণায় নারী-পুরুষের গড় পার্থক্যের পাশাপাশি ব্যক্তিভেদে কথা বলার পরিমাণে বড় ব্যবধানও পাওয়া গেছে। সবচেয়ে কম কথা বলা অংশগ্রহণকারী ছিলেন একজন পুরুষ, যিনি দিনে মাত্র ৬২টি শব্দ বলতেন। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি কথা বলা অংশগ্রহণকারীও ছিলেন একজন পুরুষ—তাঁর দৈনিক শব্দসংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৪ হাজার ১৩৪।

এ ফলাফল দেখায়, শুধু লিঙ্গের ভিত্তিতে কারও কথা বলার প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না; ব্যক্তিভেদে পার্থক্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় সময়ের সঙ্গে মানুষের কথা বলার সামগ্রিক পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রবণতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পর্দায় সময় কাটানো বেড়ে যাওয়ায় সরাসরি কথোপকথনের সুযোগ কমে যেতে পারে। তবে এ প্রবণতার কারণ নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

গবেষকদের মতে, মানুষের শারীরিক কার্যকলাপ ও ঘুমের মতো সামাজিক যোগাযোগও সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখার গুরুত্ব রয়েছে।

তথ্যসূত্র: গবেষণাসংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন; অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট কলিন টিডওয়েল ও মনোবিজ্ঞানী ম্যাথিয়াস মেহলের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। মূল গবেষণাপত্রের শিরোনাম ও প্রকাশনার তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad