শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত হাঁটার বিকল্প নেই। তবে দীর্ঘদিন হাঁটার অভ্যাস না থাকা, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা কিংবা নতুন বা আঁটসাঁট জুতা ব্যবহারের কারণে পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে। এ ধরনের অস্বস্তিতে বিশ্রাম, উপযুক্ত জুতা ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বরফের সেঁক সাময়িক আরাম দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, পায়ের ব্যথা কমাতে ঘরোয়া যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি ব্যথার কারণও বোঝা জরুরি। কারণ, সব ধরনের পায়ের ব্যথার চিকিৎসা এক নয়।
বরফের সেঁক দিতে পারেনহাঁটার পর পা ফুলে গেলে বা ব্যথা দেখা দিলে কাপড়ে মোড়ানো বরফ ব্যথার স্থানে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে লাগানো যেতে পারে। বরফ সরাসরি ত্বকে লাগানো উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী বিরতি দিয়ে সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
পা বিশ্রামে রাখুনদীর্ঘক্ষণ হাঁটার পর পায়ে ব্যথা বা ফোলা দেখা দিলে কিছু সময় বিশ্রাম নিন। শোয়ার সময় বালিশের ওপর পা উঁচু করে রাখলে ফোলা কমাতে সহায়তা করতে পারে। ব্যথা না কমা পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ হাঁটা বা পায়ে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এমন কাজ এড়িয়ে চলুন।
হালকা গরম পানিতে পা ভেজানোপেশির ক্লান্তি বা হালকা অস্বস্তিতে কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখলে আরাম লাগতে পারে। তবে পা ফুলে গেলে বা নতুন করে আঘাত পাওয়ার পর গরম সেঁক দেওয়ার আগে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়ার সমস্যা থাকলে পানির তাপমাত্রা যাচাই না করে পা ভেজানো উচিত নয়।
হালকা মালিশে সতর্কতাপায়ের পাতা বা পেশিতে হালকা মালিশে কারও কারও সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। তবে তীব্র ব্যথা, ফোলা, লালচে ভাব বা আঘাত থাকলে মালিশ এড়িয়ে চলুন। সরিষা বা নারিকেল তেল ব্যবহারে ব্যথার মূল কারণ সেরে যায়—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
সঠিক জুতা ব্যবহার জরুরিপায়ের মাপ অনুযায়ী আরামদায়ক, পর্যাপ্ত জায়গাযুক্ত এবং পায়ের পাতাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়—এমন জুতা বেছে নিন। নতুন জুতা পরার পর ব্যথা হলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করে দেখুন। হাঁটার অভ্যাস না থাকলে অল্প সময় দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়ান।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?হাঁটার সময় বারবার পায়ে ব্যথা হওয়া, বিশ্রামেও ব্যথা না কমা কিংবা ব্যথার সঙ্গে অসাড়তা বা ফোলা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। হঠাৎ তীব্র ব্যথা, পায়ে ভর দিতে না পারা, পা ঠান্ডা বা বিবর্ণ হয়ে যাওয়া কিংবা ক্ষত ও সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। বিশেষ করে হাঁটলে পায়ে ব্যথা শুরু হয় এবং বিশ্রাম নিলে কমে গেলে রক্ত চলাচলের সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।
ঘরোয়া যত্ন সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু এসব পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক