গত বৃহস্পতিবার রাতে চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্সের সাইডলাইনে দুই দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে সম্মতি হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্বে শিক্ষামন্ত্রী
বাংলাদেশের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। চীনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী রেন ইয়ৌছুন।
বৈঠকে চীনের ভাষা শিক্ষা ও সহযোগিতা কেন্দ্রের মহাপরিচালক ইউ ইউনফেং, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিময় বিভাগের উপমহাপরিচালক লিউ ইয়ং এবং কারিগরি ও প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা বিভাগের উপমহাপরিচালক চি ইয়ানওয়েই উপস্থিত ছিলেন।
কারিগরি শিক্ষায় চীনা সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দেশজুড়ে চীনা মানদণ্ডভিত্তিক ডিপ্লোমা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় চীনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা চান তিনি। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চীনা সরকারের সহায়তায় স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, কারিগরি কলেজগুলোতে ‘চীনা ভাষা + কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন’ কোর্স চালু এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চীনা ভাষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন।
চীনের উপমন্ত্রী রেন ইয়ৌছুন বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোর প্রতি সমর্থন জানান। তিনি টিভিইটি ব্যবস্থার সংস্কার, স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন এবং জাতীয় পর্যায়ে চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
যে ৯টি ক্ষেত্রে সহযোগিতা হবে
বৈঠকে শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে দুই দেশের প্রতিনিধিরা নয়টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান। এগুলো হলো—
১. কারিগরি শিক্ষা, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও জাতীয় দক্ষতা সনদায়ন নিয়ে কাজ করতে বাংলাদেশ-চীন যৌথ টিভিইটি দল গঠন।
২. চীনের কারিগরি সহায়তা, আধুনিক পরীক্ষাগার ও শিল্পখাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে মডেল প্রদর্শনী কারিগরি কলেজ প্রতিষ্ঠা।
৩. চীনা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে বিদ্যমান কারিগরি কলেজগুলোর পদ্ধতিগত মূল্যায়ন ও সার্বিক উন্নয়ন।
৪. চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিল্প ও শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় জোরদার।
৫. প্রকৌশল, উৎপাদন, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও সেবাখাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘চীনা ভাষা + কারিগরি দক্ষতা’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু।
৬. পেশাগত প্রশিক্ষণ, আনুষ্ঠানিক সনদ, শিল্পকারখানায় ইন্টার্নশিপ ও টেকসই কর্মসংস্থানকে যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নপথ তৈরি।
৭. বাংলাদেশি কারিগরি শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য বার্ষিক শিক্ষক বিনিময় ও সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু।
৮. দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, একাডেমিক বিনিময় ও উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ।
৯. স্নাতকদের কর্মসংস্থান, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও সহযোগিতার সামগ্রিক প্রভাব যাচাইয়ে আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
দুই দেশের প্রতিনিধিদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষ জনশক্তি গঠন এবং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক