অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে লিভারের ঝুঁকি বাড়ে, সুরক্ষায় করণীয়

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৪ দুপুর
  • ২০৬২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না, লিভারেও গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকা ও ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কারণে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এ সমস্যা থেকে লিভারে প্রদাহ, ক্ষতচিহ্ন বা ফাইব্রোসিস, সিরোসিস—এমনকি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত এ ধরনের ফ্যাটি লিভারকে মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (এমএএসএলডি) বলা হয়। এর একটি গুরুতর পর্যায়ে লিভারে প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি দেখা দেয়, যা এমএএসএইচ (MASH) নামে পরিচিত।

যেভাবে ধাপে ধাপে ক্ষতি হয়

১. লিভারে চর্বি জমা

ডায়াবেটিস ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সম্পর্ক রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই সমস্যাটি সম্পর্কে জানতে পারেন না।

২. লিভারে প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি

লিভারে চর্বি জমার পাশাপাশি প্রদাহ শুরু হলে কোষের ক্ষতি হতে পারে। এ অবস্থাকে এমএএসএইচ বলা হয়। রোগটি সবার ক্ষেত্রে একই গতিতে বাড়ে না; তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।

৩. ফাইব্রোসিস ও সিরোসিস

দীর্ঘদিন প্রদাহ চলতে থাকলে লিভারে ক্ষতচিহ্ন বা স্কার টিস্যু তৈরি হতে পারে। এ অবস্থাকে ফাইব্রোসিস বলা হয়। ক্ষতি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে সিরোসিস হতে পারে, যাতে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। উন্নত পর্যায়ের সিরোসিস জীবনঘাতীও হতে পারে।

৪. লিভার বিকল ও ক্যানসারের ঝুঁকি

লিভারের দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুতর ক্ষতি থেকে এর কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। সিরোসিস থাকলে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই ডায়াবেটিসের পাশাপাশি লিভারের স্বাস্থ্যেও নজর দেওয়া জরুরি।

লিভার সুরক্ষায় করণীয়

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ করতে হবে। রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে তা কমানো লিভারে চর্বি ও প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। কতটা ওজন কমানো প্রয়োজন, তা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম: সুষম খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত চিনি ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার সীমিত করা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা উপকারী।

চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা: ডায়াবেটিস থাকলে লিভারের ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসক রক্তে লিভার এনজাইমের পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম বা ফাইব্রোস্ক্যানের পরামর্শ দিতে পারেন। শুধু একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে লিভারের সব ধরনের ক্ষতি নির্ণয় করা যায় না।

উপসর্গ না থাকলেও সতর্কতা জরুরি

ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসকের ফলোআপ করা এবং লিভারের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা বা নতুন কোনো ওষুধ গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad