সোমবার প্রকাশিত চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে চীনের অর্থনীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ সম্প্রসারিত হয়েছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে প্রযুক্তিপণ্যের রপ্তানি বাড়লেও অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা ও আবাসন খাতের মন্দা প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে রয়েছে। দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি ২০২৬ সালের জন্য ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
প্রযুক্তিপণ্যের রপ্তানিতে বড় প্রবৃদ্ধিসরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে চীনের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের জোরালো চাহিদা এ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে রপ্তানিতে গতি থাকলেও অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়ছে ধীরগতিতে। সেপ্টেম্বরে দেশটির খুচরা বিক্রি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। বছরের প্রথম নয় মাসে এ বৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
উৎপাদন খাতেও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বরে শিল্প উৎপাদন বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। আর বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে এ খাতের উৎপাদন বেড়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
আবাসন খাতে মন্দা, বিনিয়োগে চাপচীনের অর্থনীতিতে দুর্বলতার আরেকটি বড় ক্ষেত্র আবাসন খাত। আবাসন, কারখানা ও যন্ত্রপাতিসহ স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগের চিত্রও হতাশাজনক। সেপ্টেম্বরে এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ সামান্য বাড়লেও জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি ও শিল্প উৎপাদন প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং আবাসন খাতের দুর্বলতা চীনের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক বেইজিংযুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেসের অর্থনীতির অধ্যাপক ঝিগুও হে মনে করেন, চীন তার নির্ধারিত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে। তবে রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে বেইজিংকে সতর্ক থাকতে হবে।
আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, বেইজিং কাঙ্ক্ষিত ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে প্রবৃদ্ধির গতি ধীর করাই বেইজিংয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো সম্ভাব্য পরিস্থিতি।’
চীনের আবাসন খাত এখনো সংকুচিত হচ্ছে উল্লেখ করে ঝিগুও হে বলেন, বেইজিং এমন পরিস্থিতিই চেয়েছিল। তাঁর মতে, চীনের পরিবারগুলোও এ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের প্রত্যাশা মানিয়ে নিচ্ছে।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক