পবিত্র কোরআনের সুরা নূহের ১০ থেকে ১২ নম্বর আয়াতে হজরত নূহ (আ.)-এর বক্তব্য তুলে ধরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং উদ্যান ও নদী-নালা দান করবেন।
আয়াতগুলোর বাংলা অর্থের সারকথা হলো, আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা তাঁর রহমত ও অনুগ্রহ লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ কারণে মুসলমানদের নিয়মিত ইস্তিগফার ও তওবার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সংকট ও দুশ্চিন্তায় ইস্তিগফারইস্তিগফারের গুরুত্ব নিয়ে একটি হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নিয়মিত ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তার সংকট থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন, দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেন এবং ধারণার বাইরে থেকে রিজিক দান করেন।
হাদিসটি সুনান আবু দাউদের ১৫১৮ নম্বর বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে হাদিসটির সনদ ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাই এর বক্তব্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হাদিস-ব্যাখ্যা ও আলেমদের মতামত বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে ইস্তিগফার করবেনইস্তিগফারের সহজ একটি বাক্য হলো—
আরবি: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
দৈনন্দিন জীবনে এই বাক্যটি নিয়মিত পড়ার পাশাপাশি নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, গুনাহ থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করা এবং ভবিষ্যতে তা পরিহার করার সংকল্প করাও তওবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেউ চাইলে সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারও পাঠ করতে পারেন।
দোয়ার পাশাপাশি চেষ্টা জরুরিইসলামে দোয়া, ইবাদত ও আল্লাহর ওপর ভরসার পাশাপাশি হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করারও গুরুত্ব রয়েছে। তাই আর্থিক সংকট বা কর্মসংস্থানের সমস্যায় ইস্তিগফারের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, কাজের সুযোগ খোঁজা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
একইভাবে, দুশ্চিন্তা দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবার-পরিজনের সহায়তা নেওয়া এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও উপকারী হতে পারে।
ইস্তিগফার একজন মুমিনের আত্মশুদ্ধি, তওবা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ আমল। তাই নিরাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা, সৎকাজ এবং দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: পবিত্র কোরআন, সুরা নূহ, আয়াত ১০–১২; সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১৫১৮ (হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে আলেমদের মূল্যায়ন প্রাসঙ্গিক)।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স