শনিবার চালানো এ পরীক্ষার খবর রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশ করে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ। প্রতিবেদনে বলা হয়, কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহারের উপযোগী ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের কার্যকারিতা ও বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করাই ছিল পরীক্ষার উদ্দেশ্য।
কেসিএনএর প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে দাবি করা হয়, পরীক্ষিত ওয়ারহেডটি উচ্চ ঘনত্বের বিস্ফোরক শক্তি ব্যবহার করে ১২ থেকে ১৩ হেক্টর আয়তনের একটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই সামরিক ইউনিটগুলোকে অভিযানের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যবস্তুর ধরন বিবেচনায় এসব অস্ত্রের উপযুক্ত সংস্করণ নির্বাচন ও ব্যবহারের সক্ষমতা দেওয়া হবে।
সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে অস্ত্র পরীক্ষা
পরীক্ষার কয়েক দিন আগে উত্তর কোরিয়া একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। এসব অস্ত্রের মধ্যে ছিল অ্যাটাক ড্রোন, নিখুঁত লক্ষ্যভেদে সক্ষম নতুন টর্পেডো এবং মাঝারি পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।
এদিকে, দুই কোরিয়ার মধ্যকার কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা সদস্য আহত হওয়ার পর থেকে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালাল পিয়ংইয়ং।
ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। পাশাপাশি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং লাউডস্পিকারের মাধ্যমে পাল্টা প্রচার শুরুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
কেসিএনএর প্রকাশিত ছবিতে মোবাইল লঞ্চার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখা গেছে। অন্য একটি ছবিতে দ্বীপাঞ্চলের লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ক্লাস্টার বোমার আঘাতের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবারের পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে গত এপ্রিলে নিজের মেয়ে জু আয়েকে সঙ্গে নিয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে যুক্ত ক্লাস্টার বোমার পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তিনি।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক