বাংলা লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী এবং ভাটিয়ালি ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা মো. শরীফুজ্জামান সোহাগ তার গানের রয়্যালিটি আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ, কপিরাইট লঙ্ঘন ও প্রতারণার অভিযোগে এক ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) শিল্পীর পক্ষে সাতক্ষীরা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ঢাকার বাসিন্দা মো. আহসানুল হাবিব অনিকের কাছে নোটিশ পাঠান।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর শরীফুজ্জামান সোহাগের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন আহসানুল হাবিব অনিক। ওই চুক্তির আওতায় শিল্পীর মৌলিক গান আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ, বিপণন ও মনিটাইজেশনের দায়িত্ব নেন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী অর্জিত আয়ের ৮০ শতাংশ রয়্যালিটি শিল্পীকে দেওয়ার কথা ছিল।
তবে অভিযোগে বলা হয়েছে, চুক্তি সম্পাদনের পরও স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্রের কপি শিল্পীকে দেওয়া হয়নি। এছাড়া গত চার বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে গানগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং প্রাপ্য রয়্যালিটি প্রদান থেকে বিরত রয়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সোহাগের জনপ্রিয় গান ‘ফুল তো ফোটে না’, ‘ওলো আমার পরান সখী’, ‘ও বন্ধুরে’, ‘যায়রে যায় কন্যা যায়’, ‘দোহাই তোমার প্রথম চিঠি’ এবং ‘জেলে চাঁদের মোমবাতি’সহ প্রায় ২০০টি গান বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
শিল্পীর দাবি, এসব গান থেকে স্ট্রিমিং, বিজ্ঞাপন, ডাউনলোড, লাইসেন্সিং এবং কনটেন্ট আইডির মাধ্যমে এ পর্যন্ত আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি আয় হয়েছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী তার প্রাপ্য রয়্যালিটির কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
লিগ্যাল নোটিশে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, রেভিনিউ স্টেটমেন্ট, বকেয়া রয়্যালিটি পরিশোধ, স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র হস্তান্তর এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যথায় কপিরাইট আইন, ২০২৩ এবং প্রচলিত ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনের আওতায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,বিনোদন ডেক্স