বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী নূতন অভিনয়জীবনের ৫৫ বছর পূর্ণ করলেন। দীর্ঘ এই পথচলায় অসংখ্য দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দেশের সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হিসেবে।
চলচ্চিত্রে নিজের শুরুর দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নূতন বলেছেন, তার স্বপ্নপূরণের পথে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা করেছিলেন বরেণ্য অভিনেত্রী সুমিতা দেবী।
নূতন বলেন, “আমার শুরুটা এত সুন্দর হবে, কখনো ভাবিনি। সুমিতা দিদির কাছে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। তিনিই আমাকে আমার স্বপ্নের পথে হাঁটার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ ভাইয়ের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। এত বছর পরও দর্শকদের যে ভালোবাসা ও সম্মান পাই, তা আমাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে।”
ময়মনসিংহের ব্রাহ্মপল্লীর মেয়ে রত্না চলচ্চিত্রে এসে হয়ে ওঠেন ‘নূতন’। তার বড় বোন গীতার মাধ্যমে সুমিতা দেবীর সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই সূত্রেই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।
সুমিতা দেবীর প্রযোজনায় ও মোস্তফা মেহমুদের পরিচালনায় নির্মিত ‘নতুন প্রভাত’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে নির্বাচিত হন রত্না। ছবির নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুমিতা দেবীই তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘নূতন’। ১৯৭০ সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালি পর্দায় যাত্রা শুরু হয় তার।
এরপর মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) প্রযোজিত ও চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘ওরা এগারোজন’-এ অভিনয় করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন নূতন। তিনি এই চলচ্চিত্রকে নিজের অভিনয়জীবনের অন্যতম সেরা কাজ বলে মনে করেন।
‘নতুন প্রভাত’, ‘ওরা এগারোজন’ ও ‘সংগ্রাম’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর ব্যক্তিগত কারণে প্রায় পাঁচ বছর অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন তিনি। পরে নায়করাজ রাজ্জাক অভিনীত ‘পাগলা রাজা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আবারও নিয়মিত অভিনয়ে ফেরেন। সেই চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয় এবং নতুন করে জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের আলো ছড়িয়ে যাওয়া নূতন আজও দর্শকদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে তার অবদান নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

প্রথম দর্পণ,বিনোদন ডেক্স