যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলে ইরান ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের জোট এই তহবিলের অর্থায়ন করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় ইরান তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করলে পুনর্গঠন তহবিল থেকে অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো চুক্তি থেকে প্রাপ্ত সম্ভাব্য সুবিধাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে পারে, কিন্তু এর বিপরীতে দেশটিকে যে শর্ত ও প্রতিশ্রুতি মানতে হবে, সেগুলোকে আড়াল করার চেষ্টা হতে পারে।
ভ্যান্স স্পষ্ট করে জানান, ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি সম্ভাব্য চুক্তির অংশ নয়। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আলোচনার খসড়ায় নেই এবং চূড়ান্ত চুক্তিপত্রও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে ইরান-সংক্রান্ত কঠোর অবস্থানের সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, নতুন কোনো সমঝোতার ফলে তেহরান অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধা পেলে তা মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির মিত্র ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যবহার করতে পারে। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় ইরানের কিছু সম্পদ অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
ভ্যান্স আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের পরও বিভিন্ন কারিগরি ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে কেবল তখনই, যখন দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ না করার প্রতিশ্রুতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্পদ অবমুক্ত করার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদে সীমাবদ্ধ রাখা। এ ক্ষেত্রে তেহরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে।
সূত্র: সিএনএন

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক