রাজস্ব আহরণে বদলাচ্ছে কৌশল, উৎপাদনমুখী অর্থনীতির দিকে সরকারের নজর

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ বিকাল
  • ৭২৪৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

করের হার বৃদ্ধি না করে উৎপাদন ও শিল্পায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিড আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উৎপাদনমুখী শিল্পায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প খাতের সম্প্রসারণ ঘটলে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরবে। রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রেও করের বোঝা বাড়ানোর পরিবর্তে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণই সরকারের মূল কৌশল।

তিনি জানান, সম্ভাব্য বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার উৎপাদনভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘রিকভারি, রিস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’—এই তিনমুখী কৌশল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে নীতির ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের কর কাঠামোর রূপরেখা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনায় প্রশাসনিক জটিলতা কমানো ও নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে সরকার আশা করছে।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, শুধু করের আওতা বৃদ্ধি কিংবা করহার সমন্বয় করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। কর প্রশাসনের দুর্বলতা দূর করা, কর ফাঁকি রোধ এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। এ লক্ষ্যে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট খাতে পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

আলোচনা সভায় র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, সরকারের ‘থ্রি আর’ ভিত্তিক উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা না গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আহরণে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থায়ন সংকুচিত হওয়ায় বিদেশি ঋণ সংগ্রহেও সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

ড. রাজ্জাক বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাষ্ট্রীয় দায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে সুদ পরিশোধে ব্যয় হওয়া অর্থ এনবিআরের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৩৬ শতাংশের সমান ছিল। আগামী অর্থবছরে সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের প্রায় ৩১ শতাংশ বিদেশি ঋণের দায় পরিশোধে ব্যয় হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য উদ্বেগের বিষয়।

তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

এই সংস্করণটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদধর্মী কাঠামো (লিড, তথ্যের গুরুত্ব অনুযায়ী বিন্যাস, উদ্ধৃতি সংক্ষেপণ ও ভাষাগত পরিমার্জন) অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad