কৃষিতে বরাদ্দ ১০ শতাংশে উন্নীত করার জোর দাবি ; খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে গবেষণা, সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৯ দুপুর
  • ২৩৮৩৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষিবিদ, অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সোমবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এর থ্রিডি হলে ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব দাবি জানান। এগ্রিকালচারিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) সেমিনারের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান।

প্রধান আলোচক ছিলেন দীপ্ত টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এস. এম. আকাশ। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আবদুর রহিম এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান কৃষিবিদ আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ্যাবের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লব।

মূল প্রবন্ধে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতের বেশ কয়েকটি ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কৃষক কার্ড চালু, ক্ষুদ্র কৃষিঋণের সুদ মওকুফ, ডাল, তেলবীজ ও ভুট্টা চাষে স্বল্পসুদে ঋণ, সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপন, বরেন্দ্র অঞ্চলে আম সংরক্ষণের হিমাগার নির্মাণ, উত্তরবঙ্গকে আধুনিক কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিশেষ বরাদ্দ এবং কৃষি উপকরণ আমদানিতে ভ্যাট ও শুল্ক ছাড়।

তবে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং বন ও পরিবেশ খাতে মোট ৩৩ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও জাতীয় বাজেটে কৃষির অংশ ধারাবাহিকভাবে কমছে। নতুন অর্থবছরে এ হার প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

সেমিনারে কৃষির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ, পচনশীল কৃষিপণ্যের অপচয় কমাতে আধুনিক কোল্ড চেইন ও হিমাগার নির্মাণ, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষিঋণ নিশ্চিত করা এবং স্মার্ট কৃষি, বাজার তথ্য ও আবহাওয়া সেবাসহ ডিজিটাল কৃষির জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ।

এছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জও চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব ঘাটতির কারণে উন্নয়ন কর্মসূচিতে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, সরকারি সহায়তা প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছাতে দুর্বল তদারকি, আন্তর্জাতিক বাজারে সার, বীজ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততার ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব।

বক্তারা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি বীমার সম্প্রসারণ, জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও বিস্তার, কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৃষি, অর্থ, পানি সম্পদ ও ব্যাংকিং খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি জানান, কৃষির আমূল উন্নয়নে বিএনপি সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই উৎপাদনমুখী ও জনকল্যাণভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘খাল কাটা কর্মসূচি’ ও কৃষি উন্নয়নের উদ্যোগ স্মরণ করে বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’—এই বিশ্বাস থেকেই কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা, সার-বীজ-কীটনাশকে ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র সহজলভ্য করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের কৃষি উন্নয়নে কৃষিবিদদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad