বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, রাষ্ট্রচিন্তাবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা যান। একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাঁর পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গেলে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, “স্যার অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে আমরা তাঁর বাসায় যাচ্ছি। দাফন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়ে পরিবারের সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।”
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রথিতযশা প্রাবন্ধিক, সাহিত্যসমালোচক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ। সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর গভীর ও মৌলিক বিশ্লেষণ দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। নিরপেক্ষ চিন্তা, যুক্তিনিষ্ঠ বিশ্লেষণ এবং জাতীয় প্রশ্নে সুস্পষ্ট অবস্থানের জন্য তিনি পাঠক, গবেষক ও শিক্ষাঙ্গনে সমানভাবে সমাদৃত ছিলেন।
তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বাংলা ভাষার সর্বস্তরে প্রয়োগ নিশ্চিত করার আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
সাহিত্য ও গবেষণায় তাঁর অবদান ছিল অনন্য। তিনি ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, রাজনীতি দর্শন, সাহিত্য চিন্তা এবং সংস্কৃতির সহজ কথা। এছাড়া তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২০টিরও বেশি।
সম্পাদক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং স্বদেশচিন্তা।
বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য, শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর প্রয়াণে জাতি হারালো একজন প্রজ্ঞাবান শিক্ষক, চিন্তাবিদ ও আলোকিত মননের পথপ্রদর্শক।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক