জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকর ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি মামুনুল হকের

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪২ বিকাল
  • ৪৭৮২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। এই লক্ষ্য পূরণে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন জরুরি।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত 'জুলাই কেন আমাদের লড়াই?' শীর্ষক ধারাবাহিক বিশ্লেষণের শেষ কিস্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক দাবি করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট সম্পন্ন করার দাবির পেছনে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ কাজ করেছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কার নিশ্চিত না হলে পরবর্তী সময়ে তা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ছিল। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমে গণপরিষদ ও প্রচলিত সাংবিধানিক সংশোধনীর মধ্যবর্তী সমাধান হিসেবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয় এবং সেটি গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

মামুনুল হকের অভিযোগ, গণভোটে জনগণের সমর্থন পাওয়ার পরও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি বিএনপির অবস্থানেরও সমালোচনা করেন এবং বলেন, গণভোটের সময় যে সমঝোতা হয়েছিল, তা থেকে সরে আসা রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি আরও বলেন, ইসলামপন্থী দল ও আলেম সমাজ জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর দাবি, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের আন্দোলন, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—এই ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

জুলাই সনদের প্রতি ইসলামপন্থীদের সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বৈষম্য দূরীকরণ, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ এবং ইসলামপন্থী রাজনীতির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি—এই তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখেই তারা সনদ বাস্তবায়নকে সমর্থন করেছেন।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের কয়েকটি বিষয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল এবং সেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্টও দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে 'অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ' শব্দবন্ধ নিয়ে তাঁর আপত্তির কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, শব্দটির আন্তর্জাতিক পারিভাষিক ব্যবহার নিয়ে ইসলামপন্থীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

মামুনুল হক বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিকল্প দুটি—জুলাই সনদের ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্র কাঠামো অথবা ১৯৭২ সালের সাংবিধানিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়নের উপযুক্ত পথ।

তিনি আরও দাবি করেন, গণভোটের সময় বিএনপি প্রকাশ্যে 'না' ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়নি, কারণ জনগণের সমর্থনের বিষয়টি তারা বিবেচনায় নিয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু আলেম রাজনৈতিক বাস্তবতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে না পারায় গণভোটের বিরোধিতা করেছিলেন।

জুলাই সনদ স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে মামুনুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অজ্ঞাতে একটি ব্যাখ্যামূলক নোট সংযুক্ত করা হয়েছে, যা তাঁর মতে সনদের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি এ ঘটনাকে 'প্রতারণা' হিসেবে উল্লেখ করেন।

সবশেষে তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই সনদের আলোকে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন করা গেলে রাজনৈতিক দলগুলোও গণভোটের রায় কার্যকরে বাধ্য হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad