জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আয়োজিত কর্মসূচি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন একাংশের শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটি আলোকসজ্জা, ফিস্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী এবং দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করা হলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মধ্যেই আয়োজন সীমাবদ্ধ ছিল।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে একটি র্যালির মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ আব্দুল কাইয়ুমকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়। বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও তাবারুক বিতরণের আয়োজন করা হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ দিবসে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোকসজ্জা, শিক্ষার্থীদের জন্য ফিস্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা অংশগ্রহণমূলক কোনো কর্মসূচির আয়োজন করা হয়নি। এছাড়া তাবারুক বিতরণের ঘোষণা থাকলেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী তা পাননি বলেও অভিযোগ ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান রাফাত বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিন। দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মর্যাদার সঙ্গে উদযাপন করা হয়েছে। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সে ধরনের কোনো আয়োজন দেখা যায়নি। একটি ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতির বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমরা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন প্রত্যাশা করেছিলাম।”
আরেক শিক্ষার্থী মো. ইকবাল বলেন, “দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন হলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পরিসরের কোনো আয়োজন ছিল না। কেন্দ্রীয় মসজিদে তাবারুক বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হলেও অনেক শিক্ষার্থী তা পাননি। শুধু ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ বললেই হবে না, তার বাস্তব প্রতিফলনও থাকতে হবে।”
কুবি শাখা ছাত্রশক্তির সংগঠক নাঈম ভূঁইয়া বলেন, “যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রশাসন দায়িত্বে এসেছে, সেই ঐতিহাসিক দিনটিই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন আয়োজনে দিবসটি উদযাপন হলেও কুবিতে অনুষ্ঠান ছিল অনেকটাই সীমিত। ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে দিবসটি উদযাপন করা উচিত।”
কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির বলেন, “প্রথম বছরে মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান হলেও দ্বিতীয় বছরে তা বদ্ধ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামনে হয়তো আরও ছোট পরিসরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।” একই সঙ্গে তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ার সমালোচনাও করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিম বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম বড় অর্জন ছিল তরুণ সমাজের জেগে ওঠা। সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও তারা রাজপথ ছাড়েনি। এই গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, অন্যায়কে বাঙালি জাতি কখনো মেনে নেয় না।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, শহীদদের স্মরণে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মারকভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন করা হলে দিবসটির তাৎপর্য ও মর্যাদা আরও যথাযথভাবে প্রতিফলিত হতো।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক