চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভা বর্জন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শুরুর পরপরই এনসিপির সাতকানিয়া উপজেলা সমন্বয়কারী তৌহিদুল ইসলাম মাসুম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা ও আহতদের অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলে সভাস্থল ত্যাগ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য ও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে, সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম, পৌরসভা জামায়াতের নায়েবে আমির শাহ আলম, সাতকানিয়া যুবদলের সদস্যসচিব নাজিম উদ্দিন, সাঙ্গু সাংগঠনিক থানা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।
সভা বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করে এনসিপির উপজেলা সমন্বয়কারী তৌহিদুল ইসলাম মাসুম বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল শক্তি ছিল ছাত্র-জনতা। অথচ আন্দোলনে আহতদের বাদ দিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ ধরনের আয়োজন গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে না। তাই আমি এ সভা বর্জন করেছি।"
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের মূল অনুষ্ঠান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলনে আহত ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সাতকানিয়ায়ও দিবসটি পালনের নির্দেশনা আসে। অল্প সময়ের মধ্যে আয়োজন করতে হয়েছে। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশগ্রহণ করেছেন। সভা বর্জনের কোনো কারণ ছিল না।"
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতকানিয়ার স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক