নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজ মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
আহতদের মধ্যে ছাত্রদলের কর্মী তুহিন, জাকারিয়া, অলক, তোফায়েল, আল আমিন, তানজিম ও রাসেলের নাম জানা গেছে। এছাড়া ছাত্রশিবিরের আহতদের মধ্যে রয়েছেন মহানগর সভাপতি অমিত হাসান, অফিস সম্পাদক রায়হান, তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল, অর্থ সম্পাদক জুহাজ এবং বন্দর থানা সভাপতি আসাদুল ইসলাম।
সংঘর্ষের সময় কলেজ রোড ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন এবং যান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী, সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তব্যের সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি উস্কানিমূলক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে কলেজ রোড ও চাষাঢ়া এলাকায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় তাদের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, কলেজের ভেতরে এবং ডাকবাংলো মোড়ে আগে থেকেই শিবিরের বিপুলসংখ্যক কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করছিল। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলায় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং কলেজ শাখা সভাপতি এমদাদুল হক শুভ অস্ত্র হাতে হামলার নেতৃত্ব দেন।
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি অমিত হাসান অভিযোগ করেন, কলেজের অনুষ্ঠান শেষে গেটের বাইরে তাদের কলেজ শাখার সভাপতি এমদাদুল হক শুভ ও সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবালকে মারধর করা হয়। বিষয়টি জানতে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ডাকবাংলো মোড়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক