জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জকসু। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক দাবি দমনে সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে জকসু জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর হাতে প্রকল্পের কাজ হস্তান্তর, সাত একর জমিতে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক মো. নূর মোহাম্মদসহ নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, এ সময় ছাত্রদল ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাদের প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক অডিটোরিয়াম থেকে বের করে দেন।
পরে আন্দোলনকারীরা শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
জকসুর দাবি, কিছুক্ষণ পর প্রক্টর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং অন্যথায় জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এর পরপরই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিতে দিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা হ্যান্ডমাইক ভাঙচুর করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্বিচারে হামলা চালায়। এতে জকসুর নেতৃবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষার্থীরাও আহত হন বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে ছাত্রশক্তির আহ্বায়কসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপরও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। ভিন্নমত পোষণকারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ চালিয়ে ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
জকসুর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ভিপি রিয়াজুল ইসলাম আহত হন। এছাড়া জিএস আব্দুল আলিম আরিফের ওপর দলবদ্ধ হামলা চালিয়ে তার মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা এখনও ক্যাম্পাসে ভিন্নমত পোষণকারী শিক্ষার্থীদের খুঁজে হামলার চেষ্টা করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষা পরিবেশের জন্য হুমকি।
বিবৃতির শেষাংশে জকসু জানায়, সন্ত্রাস, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি কিংবা গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর কখনোই দমিয়ে রাখা যাবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে অতীতেও সোচ্চার ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক