জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘কালিমায়ে তাইয়্যেবার মতো’ বিশ্বাস করি: এমপি মনিরুল

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৮ রাত
  • ৩৭৭৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আমরা ততটাই বিশ্বাস করি, যতটা বিশ্বাস করি কালিমায়ে তাইয়্যেবাকে।” তিনি বলেন, দেশ গঠনের স্বার্থে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মারক উৎসব’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “১৯৭১ সালে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি, এখন তাদের কাছ থেকেই যুদ্ধের দীক্ষা নিতে হচ্ছে—এটাই সবচেয়ে বড় দুঃখের।”

তিনি আরও বলেন, “দেশ গড়ার প্রশ্নে আরেকটু ধৈর্য ধরতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের যুগের মানুষ নন, তিনি তোমাদেরই যুগের। তোমাদের ব্যথা তিনি বোঝেন। তিনি নিজেও নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাঁর মা-ও নির্যাতিত ছিলেন। তোমরা ধৈর্য ধরো, প্রধানমন্ত্রীর ওপর ভরসা রাখো। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ দেশ পথ হারাবে না। দল নয়, দেশের প্রশ্নে এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে সবাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকো।”

তিনি বলেন, “দেশ যেখানে, মানুষ যেখানে, মুক্তি যেখানে—আমি সেখানে। তোমরা মেধাবী ও সুবক্তা। তোমরা নেতৃত্বে থাকলে দেশ সঠিক নেতৃত্ব পাবে।”

কুমিল্লার উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “দেশ বাঁচানোর পাশাপাশি আসুন, কুমিল্লাকেও বাঁচাই। কুমিল্লা অনেকটাই পিছিয়ে গেছে। আমি সেই পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করেছি এবং কিছুটা সফলতার পথেও আছি। এর কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। আমার কাছে সবার আগে বাংলাদেশ, পাশাপাশি সবার আগে কুমিল্লা।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান।

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত করতে যারা জীবন দিয়েছেন, চোখ হারিয়েছেন কিংবা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন—তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

তিনি দাবি করেন, “গণতান্ত্রিক বিশ্বের কোথাও এমন নজির নেই, যেখানে এক মাসে কোনো শাসক হাজারো মানুষকে হত্যা এবং হাজার হাজার মানুষকে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিয়েছে। শেখ হাসিনা তা করেছেন। সেই বর্বর সময় অতিক্রম করে আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।”

নাজমুল হাসান আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমি বলি, সবার আগে বাংলাদেশের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই শহীদদের স্মরণ করতে হবে।”

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লার শিক্ষার্থীদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থীরা সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন। ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম দিকের হামলাগুলোর একটি সংঘটিত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের মত ও আদর্শ ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রশ্নে আমরা এক ও অভিন্ন।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা জেলা আহ্বায়ক সাকিব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদ চৌধুরী, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসাইন, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন, শহীদ হামিদুর রহমান সাদমানের মা কাজী শারমিন, শহীদ মাসুমের বাবা শাহীন মিয়া, ছাত্রশক্তি কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক মোস্তাফা জিহান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক নাঈম ভূঁইয়া, সমন্বয়ক ত্বোহা আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad