হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা, আদালতের নির্দেশনা মানার আহ্বান

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:২০ দুপুর
  • ৩৪৪৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ বা প্রচার করা হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আদালতের আদেশ অমান্য করে কেউ যদি আগাম ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তাহলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার এর আগেও এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছে। আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারের দায়িত্ব হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে আদালতের আদেশ অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

তবে ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়ার পক্ষে তিনি নন। কারও যদি আদালতের আদেশ নিয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করা উচিত। তবে আদেশ বহাল থাকা পর্যন্ত তা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দেশে ফেরার ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিষয়টি বিভিন্ন কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থন, আইনজীবী নিয়োগসহ সব ধরনের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে।

সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতেও শেখ হাসিনার বিভিন্ন আহ্বানের উল্লেখযোগ্য বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি। এখনও কেউ কেউ তাকে সমর্থন করতে পারেন, তবে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সাংগঠনিক বা নৈতিক সক্ষমতা তাদের নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। বর্তমানে ওই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে সরকারের কোনো তদন্ত কার্যক্রম চলছে না।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিনের তথ্য সরকার দেরিতে জানার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হবে।

প্রশাসনে আগের সরকারের প্রভাব প্রসঙ্গে তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরে গড়ে ওঠা প্রশাসনিক কাঠামো একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা অনেক কর্মকর্তা এখনও কর্মরত রয়েছেন। তাদের পরিবর্তে নতুন জনবল গড়ে তুলতে সময় লাগবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad