তাড়াশে ১৯ কোটি টাকার সড়ক মেরামত: কাজ শেষ না হতেই ধস, অনিয়মের অভিযোগ

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:০২ দুপুর
  • ৩৯১৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় প্রায় ১৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ব্যয়ে চলমান ১১ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং চুক্তি অনুযায়ী সড়কের দুই পাশে সোল্ডার ও স্লোপ নির্মাণ না করায় সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগের উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে কাটাগাড়ী জিসি পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের কার্যাদেশ পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড। প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ১৯ কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৫ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমরান হোসেন জানান, সিরাজগঞ্জের ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলাম ও মাহবুব চৌধুরীর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তারা কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। তিনি নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিকে কাজের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে ১৮ বার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা নিয়মনীতি মানছেন না, বরং সাব-ঠিকাদারের কাছ থেকে হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে সাব-বেজ নির্মাণ করা হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী তিন ফুট প্রশস্ত সোল্ডার ও স্লোপ না করায় এজিংয়ের ইট ও মাটি ধসে পাশের খালে পড়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় ১১০ জনের স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের ওপর নিম্নমানের খোয়া ফেলে রোলার দিয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে। অনেক স্থানে এজিংয়ের ইট ধসে পড়েছে এবং দুই পাশে সোল্ডার ও স্লোপ নির্মাণ করা হয়নি।

উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াহাব মনির বলেন, সাব-ঠিকাদাররা স্পেসিফিকেশন বহির্ভূতভাবে এবং ল্যাব টেস্ট ছাড়াই নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহার করছেন। বারবার তদারকি ও বাধা দেওয়া হলেও তারা তা আমলে নিচ্ছেন না।

সাব-ঠিকাদার মাহবুব চৌধুরী বলেন, “কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে নেওয়া হবে।” তবে অপর সাব-ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পাবনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোমিন মুজিবুল হক সমাজি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই পরিদর্শনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান বলেন, সড়কের স্থায়িত্ব রক্ষায় সোল্ডার ও স্লোপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ছাড়া নির্মাণ করলে সড়ক ধসে পড়া স্বাভাবিক। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও সাব-ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমি বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad