সমুদ্র ও নৌপথ শক্তিশালী হলে দেশের সার্বভৌমত্ব আরও সুদৃঢ় হবে: নাহিদ ইসলাম

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৪ বিকাল
  • ৩৫০৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের সমুদ্র ও নৌপথকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন ও শক্তিশালী করা গেলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি বলেন, সমুদ্রবন্দর ও নৌপথই বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের প্রধান উন্মুক্ত দ্বার, তাই এ খাতের উন্নয়ন জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “এখনও আমাদের সংস্কার ও বিচারের দাবিতে কথা বলতে হচ্ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তাদের পরিণতি স্বৈরতান্ত্রিক হবে। রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সেই সিদ্ধান্তের ভার প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। এতদিন ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, সরকার এখন তার বিপরীত পথে হাঁটছে। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই জনগণ কথা বলতে শুরু করেছে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা একটি অসমাপ্ত কাজ করেছি। কেন তা সম্পূর্ণ করতে পারিনি, সে জন্য আমাদের দায়ী করা যেতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, তখন আমরা কারও সমর্থন পাইনি। এখন যারা গণঅভ্যুত্থানের কর্তৃত্ব দাবি করছেন, তারা সবার আগে ক্যান্টনমেন্টে গিয়েছিলেন। সে সময় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়বেন—এটি অনেকের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ক্ষমতার কাঠামো বদলে যাবে কিংবা তিনি দেশ ছেড়ে চলে যাবেন, এমনটি অনেকেই ভাবেননি। বরং আওয়ামী লীগকে বিরোধী দলে রেখে পরবর্তীতে আবার ক্ষমতায় আনার একটি পরিকল্পনা ছিল।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়টির ওপর বর্তায়। তিনি বলেন, ঢাকার পর সবচেয়ে বড় আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল চট্টগ্রাম, যার সূচনা হয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ভবিষ্যতেও জনগণের পক্ষে কোনো আন্দোলনের প্রয়োজন হলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সমুদ্র ও বন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের তিন দিক ভারত দ্বারা বেষ্টিত। বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সরাসরি যোগাযোগের একমাত্র উন্মুক্ত পথ সমুদ্র। এ কারণে আমরা কখনোই দিল্লির ওপর নির্ভরশীল হইনি। সমুদ্রবন্দর আমাদের স্বনির্ভরতার অন্যতম ভিত্তি। তাই পরিকল্পিতভাবে সমুদ্র ও নৌপথকে শক্তিশালী করতে পারলে দেশের সার্বভৌমত্ব আরও সুদৃঢ় হবে। আর এ ভাবনার নেতৃত্ব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আসা উচিত।”

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহাইব, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad