জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৯ দুপুর
  • ৩০৪৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনা ভুলিয়ে দেওয়ার মতো কোনো অপচেষ্টা হলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, "জীবন তো একটাই, সেই জীবন জাতির জন্য উৎসর্গ হোক। এই ইস্যুতে বৃদ্ধ আর যুবক একাকার।"

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওআইআরডি) আয়োজিত ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের বিষয়টি জনগণের স্মৃতি থেকে মুছে দিতে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। তবে জনগণের রায়ই চূড়ান্ত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের নিজস্ব কোনো রায় নেই; জনগণের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগও নেই। জাতির সঙ্গে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে যার যে অবদান রয়েছে, তা যথাযথভাবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও তৈরি না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা থাকলেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও হয়নি। সরকারের প্রতি এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজনীতিকদের বক্তব্য ও অবস্থান একরকম থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির পর অনেকের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। পূর্বের অঙ্গীকার থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন বয়ান তৈরি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় সরকারকে অবশ্যই মেনে নিতে হবে। একই সঙ্গে খুন, গুম ও নির্যাতনের বিচার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন। আগের তুলনায় বিচার প্রক্রিয়ার গতি কমে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত চালুর দাবি জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ৫ আগস্ট এটি উদ্বোধনের কথা বললেও ৪ আগস্ট পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি দেখা যায়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যদি জুলাই আন্দোলনকে ভুলিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা থেকে থাকে, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের হয়রানি, নির্যাতন বা তাদের ওপর কোনো ধরনের হামলা করা উচিত হবে না। তিনি বলেন, যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাদের অবদান ভুলে যাওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো জাতীয় প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হতে তারা প্রস্তুত। তবে জনগণের অধিকার বিসর্জন দিয়ে কিংবা কোনো ধরনের আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করে নয়। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারেরও প্রস্তুতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ওআইআরডির উপদেষ্টা ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল বুলবুল, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম এবং মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ অন্যান্য অতিথিরা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad