জাবি প্রশাসনের ‘বিশেষ সুবিধা’ প্রত্যাখ্যান করলেন জাকসু নেতারা, সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ দুপুর
  • ২৮৮৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাঁদের পদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকতে পারবেন—বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন জাকসু নেতারা। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারাও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হলে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকসু ও হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট পদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বরাদ্দকৃত হলে অবস্থান করতে পারবেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ-২০১৮ অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে আবাসিক হল ত্যাগ করার বিধান রয়েছে। ফলে প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত বিদ্যমান বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, জাকসুর পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো দাবি কখনোই প্রশাসনের কাছে জানানো হয়নি। কোন আইনি ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে প্রশ্ন তুলে তিনি প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন এবং দ্রুত তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

জাকসুর কার্যকরী সদস্য নাবিলা বিনতে হারুন বলেন, জাকসু প্রতিনিধিদের অবৈধভাবে হলে থাকার সুযোগ করে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, অন্য কাউকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে জাকসুকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান।

এদিকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দীন মোহাম্মদ বাবর বলেন, জাকসুর নেতারা নিজেরাই যখন জানিয়েছেন তাঁরা এ সুবিধা চাননি, তখন না চাইতেই তাঁদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অথচ সম্প্রতি ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হলের কক্ষ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, কয়েক মাস আগে জাকসুর ভিপির ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও হলে অবস্থানের বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। এখন প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত দেখে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা দিতেই নেওয়া হয়েছে? সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এক নিয়ম এবং জাকসু প্রতিনিধিদের জন্য আরেক নিয়ম হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের দাবিতে জাকসু প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad