পৌর মেয়র থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে মির্জা ফখরুল

  • এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৮ দুপুর
  • ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনি বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’

তিনি জানান, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন আইনজীবী এবং ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তি। মা মির্জা ফাতেমা আমিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষকতা করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরেও নিরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের আমলে বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন মির্জা ফখরুল। পরে আবার শিক্ষকতা পেশায় ফিরে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পৌর মেয়র থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে

১৯৮৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালের ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এরপর এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেনকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব

২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে মির্জা ফখরুল প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে বিরোধীদলীয় রাজনীতিতে তিনি দলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর থেকে দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।

সংসদ নির্বাচনে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে পরাজিত হন মির্জা ফখরুল।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হন। বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হলেও শপথ না নেওয়ায় পরে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পথ পেরিয়ে এবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে তার পদত্যাগ নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

ব্যক্তিজীবনে মির্জা ফখরুল রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে। রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকার একটি বিমা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তাদের বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং ঢাকার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

মির্জা ফখরুলের চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বিএনপির নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের চতুর্থ স্পিকার। তিনি জিয়াউর রহমানের সরকারে ভূমিমন্ত্রী এবং পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

এবার মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলা তাকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির প্রার্থী হিসেবে নতুন এক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad