সলঙ্গার হাটিকুমরুলে আবাসিক হোটেল গুলোতে অবাধে চলছে অসামাজিক কাজ

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৮ বিকাল
  • ১৩৪৫০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার ব্যস্ততম হাটিকুমরুল এলাকার কয়েকটি আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল অনৈতিক কর্মকাণ্ডের চক্র।

সাধারণ যাত্রীদের সাময়িক থাকার সুবিধার্থে তৈরি করা ‘হোটেল নিরিবিলি’, ‘ময়নামতি’ এবং ‘নিউ আসবাসিক’ও আদর্শ বোডিং সহ হোটেলগুলো এখন রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য পতিতালয়ে,এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় সচেতন ও সাধারণ বাসিন্দাদের।

​স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখো যায়, চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চল থেকে নারীদের নিয়ে এসে এসব হোটেলে অনৈতিক ব্যবসায় নিয়োজিত করছে।

আবাসিক হোটেলের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ভেতরের কক্ষগুলোতে তৈরি করা হয়েছে ছোট ছোট অসামাজিক কাজের আখড়া। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপদ আবাসন সুবিধা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা আক্ষেপ করে জানান, দিনের যেকোনো সময়ে অপরিচিত নারী ও পুরুষের অবাধ যাতায়াত লক্ষ্য করা যায় এসব হোটেলে। বহিরাগতদের সন্দেহজনক চলাফেরার কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও হাটিকুমরুল এলাকায় আসা নারী যাত্রীদের নিরাপত্তার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। আবাসিক হোটেলের ছদ্মবেশে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর সবার জানা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া ও দুর্ধর্ষ হয়ে উঠেছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে 'নিউ আবাসিক হোটেল'-এ গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে হোটেলের ম্যানেজার এখলাস আলী প্রথমে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করেন।

পরবর্তীতে অসামাজিক কাজের অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্টভাবে অভিযোগ অস্বীকার না করে অদ্ভুত মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমরা আগের মতো আর মেয়ে দিয়ে ব্যবসা করি না। এখন দুই-একটা মেয়ে আছে, যারা মাঝে মধ্যে আসে। তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে হোটেল কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে বা যোগসাজশেই এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

​এলাকার শিক্ষক, তরুণ ও সচেতন মহলের অভিমত, বাণিজ্যিক ও ভৌগোলিক কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাটিকুমরুল এলাকায় যদি এ ধরনের অসামাজিক কারবার নিয়মিত চলতে থাকে, তবে উঠতি বয়সের তরুণ-যুব সমাজ সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হবে। সেই সাথে চুরি, ছিনতাই এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাবে।

সামাজিক শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব আবাসিক হোটেলে নিয়মিত নজরদারি চালানো, অবস্থানকারী অতিথিদের এনআইডি ও সঠিক পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

​এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের একমাত্র দাবি—প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সরজমিনে এসব হোটেলের তথ্য অনুসন্ধান করেন। অনৈতিক ও অবৈধ কাজের সাথে যুক্ত প্রভাবশালী ও হোটেল পরিচালনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়গঞ্জ সার্কেল সাইফুল ইসলাম খান বলেন , অপরাধ ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। হাটিকুমরুল এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোর অনিয়ম ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত কিছু তথ্য আমাদের নজরে এসেছে। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি, তবে এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে খুব দ্রুতই প্রতিটি আবাসিক হোটেলে একযোগে চিরুনি অভিযান চালানো হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad