মৃত্যুর পরও দুর্ভোগ, বেহাল সড়কে খাদে আটকে গেল লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪২ বিকাল
  • ২৯৯৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সানুহার-ধামুরা-সাতলা সড়কের বেহাল দশায় এবার খাদে আটকে পড়েছে একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে ঈদগাহ মার্কেট এলাকায় সামান্য বৃষ্টির পর সড়কের গর্ত ও কাদায় অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে যায়। স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও সেটি সড়কে তুলতে পারেননি।

ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া সড়কটি নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের অসংখ্য গর্তে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। এতে যানবাহন চলাচল তো বটেই, অনেক স্থানে পথচারীদের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, সানুহার-ধামুরা-সাতলা সড়কটি এলাকার অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগীসহ হাজারো মানুষ চলাচল করেন। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অটোরিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনগুলোকে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

এর আগে গত ৯ আগস্ট সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে ঈদগাহ বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিকেল ৪টার দিকে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রেখে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় ‘সড়ক সংস্কার করতে হবে’ ও ‘দুর্ভোগের অবসান চাই’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। কর্মসূচিতে মশিউর রহমান, ইয়াছিন ফরাজী, হিমেল ও সামিয়া তালুকদারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং শত শত এলাকাবাসী অংশ নেন।

ব্যবসায়ীদেরও ভোগান্তি

সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ঈদগাহ বাজারের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, সড়কের দুরবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুটোই বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের কারণে অনেক চালক এ পথ এড়িয়ে চলায় বাজারের স্বাভাবিক বেচাকেনাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস

উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য এর আগে বরাদ্দ ও টেন্ডার হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে আগ্রহী না হওয়ায় তখন কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সড়কটি সংস্কারের জন্য পুনরায় টেন্ডার হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু হবে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কারণে তাঁরা আর শুধু আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন। দ্রুত সময়ের মধ্যে টেকসই ও মানসম্মত সংস্কারকাজ শুরু এবং কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর তদারকি চান তাঁরা। অন্যথায় দাবি আদায়ে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad