শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত লংমার্চে নিরাপত্তা চায় এনসিপি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৬ বিকাল
  • ৩৫৬৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ছয় দফা দাবিতে আগামী শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত পুরো পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ সফল করতে আয়োজিত সমন্বয় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় জোট।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর মোড়ে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত সেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। এরপর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে।

সকাল ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার নূরজাহান হোটেলের বিপরীতে খালি জায়গায় সমাবেশ ও খাবারের বিরতি রাখা হয়েছে। বেলা ৩টার দিকে লংমার্চ ফেনীর মহিপালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এরপর বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আরেকটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে রংপুর, সিলেট ও খুলনাতেও লংমার্চ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জোটটি।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনভোগান্তি নিরসন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, শুরুতে লংমার্চে পাঁচ থেকে ছয় হাজার গাড়ি নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও জ্বালানি সংকট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তা কমিয়ে প্রায় এক হাজারে নামানো হয়েছে।

তিনি জানান, কর্মসূচি সফল করতে ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাদের পরামর্শে সড়কে গাড়িবহর এক লাইনে চলবে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের কারণে মানুষ এমনিতেই ভোগান্তিতে রয়েছেন। তাই লংমার্চের কারণে যাতে জনদুর্ভোগ আরও না বাড়ে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক থাকবেন। যানজটে কোনো অ্যাম্বুলেন্স যাতে আটকে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের কথা শুনতেই তারা মাঠে যাচ্ছেন। রাস্তার পাশে এসে সাধারণ মানুষকে লংমার্চকারীদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি। লংমার্চ শেষে যেসব মানুষের সঙ্গে তারা কথা বলবেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় সমাবেশ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

লংমার্চের পুরো পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ক্ষমতাসীন দলের কেউ যাতে হামলা করে তার দায় লংমার্চকারীদের ওপর চাপাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় লংমার্চে অংশ নিতে আগ্রহীদের সরকারি দলের নেতাকর্মী ও অনুসারীরা হুমকি ও হয়রানি করছেন। অতীতে তারাও জুলুমের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, একই ধরনের আচরণ করা হলে পরিস্থিতি হিতে বিপরীত হতে পারে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad