বৃহস্পতিবার নরসিংদী শহরের শিক্ষা চত্বর এলাকায় প্রবাসী কল্যাণ সংঘ ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে লুৎফর রহমানের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে লুৎফর রহমানের ছোট বোন শাহিদা আক্তার অভিযোগ করেন, পারিবারিক মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে তার ভাইয়ের সঙ্গে নরসিংদী জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নয়ন মোল্লার পরিচয় হয়। পরে লুৎফর কুয়েতে চলে গেলে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তার স্ত্রী হাফসা আক্তার, ১১ বছরের ছেলে মো. তাওহিদ, ৮ বছরের মেয়ে তাসমীম আক্তার, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নয়ন মোল্লা নিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাহিদা আক্তারের দাবি, বিষয়টি জানতে পেরে লুৎফর দেশে ফিরে স্ত্রী-সন্তান, অর্থ ও স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে তাকে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় লুৎফর রহমান নরসিংদী মডেল থানা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা আইনজীবী সমিতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর নয়ন মোল্লার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের পর নরসিংদী জজ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদ থেকে অ্যাডভোকেট নয়ন মোল্লাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের (জিপি-পিপি শাখা) সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ফারুক হোসাইনের গত ২৫ আগস্ট স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর নিয়োগ পাওয়া নরসিংদী জেলার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও অ্যাডভোকেট নয়ন মোল্লার এপিপি পদে নিয়োগের আদেশ বাতিল করা হয়েছে। তবে নিয়োগ বাতিলের কারণ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে মানববন্ধনে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট নয়ন মোল্লা। তিনি বলেন, হাফসা আক্তারকে তার স্বামী লুৎফর রহমান নানাভাবে নির্যাতন করতেন। এ কারণে হাফসা তাকে আইনগতভাবে তালাক দিয়ে নয়ন মোল্লাকে বিয়ে করেছেন।
নয়ন মোল্লার দাবি, প্রবাসী লুৎফর রহমানের কোনো অর্থ বা স্বর্ণালংকার তিনি নেননি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি আইনগত সহায়তা নিয়েছেন বলেও জানান।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক