বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অবস্থান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে র্যাব বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ফলে র্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবকে তিনি সর্বান্তকরণে সমর্থন করেন এবং এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
র্যাবের বিকল্প হিসেবে নতুন বাহিনী গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, এলিট ফোর্সের বিকল্প হিসেবে নতুন কোনো বাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনা প্রয়োজন।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পৃথক বাহিনী গঠনের বিষয়েও ইতিবাচক মত দেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সাইবার স্পেসে সরকারি দল, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে একটি সাইবার সিকিউরিটি ফোর্স গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে এবং ভালো উদ্যোগ হলে তারা তা সমর্থন করবেন।
তবে নতুন কোনো বাহিনী যেন দমন-পীড়নের হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্য হতে হবে মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দমন বা নিপীড়ন নয়।
র্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন বাহিনী গঠনের আগে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও চিন্তাভাবনা ও ‘হোমওয়ার্ক’ করতে হবে।
তিনি বলেন, নতুন বাহিনী গঠন করা হলে জনগণের মধ্যে যেন এমন ধারণা তৈরি না হয় যে শুধু নাম বা কাঠামো পরিবর্তন করে একই ধরনের প্রতিষ্ঠান ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার সামগ্রিক ধারণা ও কার্যক্রম যে পরিবর্তিত হয়েছে, সে বিষয়ে জনগণকে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, র্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবের পক্ষে তিনি আছেন; তবে সিদ্ধান্তটি সবার সঙ্গে আলোচনা, ঐকমত্য এবং আরও পর্যালোচনার মাধ্যমে নেওয়া উচিত।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক