ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ মডেল নিতে আগ্রহী ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ রাত
  • ১৬৮৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সদস্য দেশগুলোতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালুর বিভিন্ন পদ্ধতি বিবেচনা করছে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)। বৃহস্পতিবার ঢাকার ইউনূস সেন্টারে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের।

বৈঠকে উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী ও টেকসই সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অধ্যাপক ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রামীণ ব্যাংক কার্যক্রম, সামাজিক ব্যবসার ধারণা এবং ‘তিন শূন্য’—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—ধারণা নিয়ে মতবিনিময় করেন প্রতিনিধিরা।

ড. আল জাসের জানান, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আইডিবি তার সদস্য দেশগুলোতে ক্ষুদ্রঋণ চালুর সম্ভাব্য উপায়গুলো পর্যালোচনা করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণের বিভিন্ন কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার জন্য আইডিবির একটি দল পাঠানোর আহ্বান জানান, যাতে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় মডেল ও পদ্ধতি চিহ্নিত করতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের জন্য ড. আল জাসেরকে ধন্যবাদ জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, এ অর্থায়ন বাংলাদেশ ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সম্পর্কের গভীরতা এবং দেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আইডিবির ভূমিকার প্রতিফলন।

অধ্যাপক ইউনূসের কাজের প্রশংসা করে ড. আল জাসের বলেন, বর্তমানে অনেক তরুণ প্রচলিত চাকরিব্যবস্থার বাইরে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে আগ্রহী। তারা শুধু চাকরিজীবী হওয়ার পরিবর্তে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে চায়।

জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তরুণদের সৃজনশীলতাকে সমস্যা সমাধানে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এ ধারণাই ক্ষুদ্রঋণের অন্যতম ভিত্তি। এ প্রসঙ্গে তিনি গ্রামীণের নবীন উদ্যোক্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন, যা বাংলাদেশে শুরু হয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে।

বৈঠকে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস জানান, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হবে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলা।

গ্রামীণ এলাকায় সামাজিক ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিজ্ঞতাও আইডিবির প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, চক্ষুসেবা, নার্সিং কলেজ ও হাসপাতাল চেইনসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমান প্রজন্ম ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়ায় এটি পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী প্রজন্ম। তাদের লক্ষ্য শুধু চাকরি পাওয়া নয়; বরং মানবিক ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে নিজেদের সৃজনশীলতা কাজে লাগানো।

বৈঠকে দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক উন্নয়নে উদ্ভাবনী এবং টেকসই পদ্ধতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ও অধ্যাপক ইউনূসের অভিন্ন আগ্রহের বিষয়টি উঠে আসে।

ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদিব ইউসুফ আল আমা, আইডিবির কান্ট্রি প্রোগ্রামস বিভাগের মহাপরিচালক আনাস আসিয়ামি এবং আইটিএফসির ট্রেড ফাইন্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবদিহামিদ আবু।

এ ছাড়া আইডিবি, আইটিএফসি ও ঢাকার আঞ্চলিক হাবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান, ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ এবং গ্রামীণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসমিনা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad