সকাল ১১টার দিকে জুলাই জাদুঘরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমসহ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাদুঘরের মহাপরিচালক এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাদুঘরে দর্শনার্থী টিকিট সংগ্রহের পর রাষ্ট্রপতি ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ধাপের চিত্র পরিদর্শন করেন তিনি। পরে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘর ঘুরে দেখেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি গাছও রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি। এ ছাড়া তিনি বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতন সামগ্রী ও জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। শহীদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পরে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন রাষ্ট্রপতি। প্রামাণ্যচিত্র দেখার সময়ও তাঁকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়। পরিদর্শন শেষে তিনি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
পরিদর্শন বইয়ে রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এ আন্দোলনের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি; কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি।’ তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র কখনোই জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। ভবিষ্যতে দেশে যেন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ আর না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে এবং জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের স্মরণ করবে।
এ সময় জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে ব্রিফ করেন গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক