বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন নিয়ে জরুরি মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এডিস মশার লার্ভা উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়ে। এ কারণে চিকিৎসার পাশাপাশি এবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
তিনি জানান, গত পরশুদিনের সভায় পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পৃথকভাবে পাঁচটি করে শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত হাসপাতালেও চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। তবে সরকারের মূল লক্ষ্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকানো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং এডিস মশার লার্ভা উৎপাদনের সুযোগ বন্ধ করা গেলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমে আসবে। এ লক্ষ্যেই তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হবে। উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও মহানগর পর্যায়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এডিস মশার লার্ভা উৎপাদনের সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে ধ্বংসের পাশাপাশি সাধারণ ময়লা-আবর্জনাও পরিষ্কার করা হবে।
উদ্বোধনী কর্মসূচিতে স্কাউট, বিএনসিসি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রেড ক্রিসেন্ট, রোভার, বিডি ক্লিন ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অংশ নেবেন। একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় কর্মসূচি শুরু হবে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাও এতে অংশ নেবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্য শোনার পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করবেন। রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবীদের বিভিন্ন ওয়ার্ড নির্ধারণ করে দেওয়া হবে এবং তারা দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেবেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এ কর্মসূচির আওতায় থাকবে। দেশের প্রতিটি কলেজ, হাইস্কুল ও মাদ্রাসা প্রতি শনিবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে নির্ধারিত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যৌথভাবে স্থান নির্ধারণ করবে। এসব স্থানের মধ্যে নর্দমা, পুকুরের কচুরিপানা, খাল, খেলার মাঠ ও মানুষের চলাচলের স্থান থাকতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির প্রচার বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন মহানগরের সিটি করপোরেশনের ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডে ডেঙ্গু ও এডিস মশা প্রতিরোধসংক্রান্ত ভিডিও প্রচার শুরু হয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় একাধিকবার এসব ভিডিও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)