ভাইভার নম্বর বাড়ানো দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত: গোলাম পরওয়ার

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১২ দুপুর
  • ২৬০৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থাকে দুর্বল করবে এবং রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করবে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি সরকারি চাকরির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তন করে ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

‘মেধার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে’

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে দলীয়করণ শুরু করেছে। তাঁর দাবি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় মেধাহীন, অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রতিষ্ঠানে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে অন্ধ দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

‘ভাইভার অতিরিক্ত নম্বর উদ্বেগজনক’

গোলাম পরওয়ার বলেন, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা। অথচ সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থায় এমন একটি বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মেধার মূল্যায়নকে দুর্বল করবে।

তাঁর ভাষ্য, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভাইভার নম্বর বড় আকারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রশাসনকে দলীয়করণের ‘সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের নগ্ন হাতিয়ার’ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

লিখিত পরীক্ষাকে বেশি বস্তুনিষ্ঠ দাবি

জামায়াতের এই নেতা বলেন, লিখিত পরীক্ষা একজন প্রার্থীর জ্ঞান, মেধা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও প্রস্তুতি তুলনামূলকভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। উত্তরপত্র সংরক্ষণ, পুনর্মূল্যায়ন ও অডিট করাও সম্ভব।

অন্যদিকে মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন অনেকাংশেই বোর্ডের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। তাই ভাইভার নম্বরের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে মেধার ব্যবধান কৃত্রিমভাবে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতার অবমূল্যায়ন ঘটবে এবং যোগ্য প্রার্থীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

‘জালিয়াতি বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নেওয়া হোক’

গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী প্রতিযোগিতা করেন। অনেকে দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মেধা ও পরিশ্রম এমন অনিশ্চিত ব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে মৌখিক পরীক্ষার অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে লিখিত পরীক্ষার ফল সহজেই উল্টে দেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, প্রক্সি, জালিয়াতি ও পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধ জরুরি। তবে জালিয়াতি বন্ধের অজুহাতে ভাইভার নম্বর বাড়ানো গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই, পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল মনিটরিং ও কঠোর শাস্তির মাধ্যমে অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।

‘পুরোনো দলীয়করণের পুনরাবৃত্তি নয়’

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অতীতে সরকারি চাকরি ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের যে ভয়াবহ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তার অবসান চেয়েছে। সরকারের দায়িত্ব সেই গণআকাঙ্ক্ষা ধারণ করা, নতুন কোনো পদ্ধতিতে পুরোনো দলীয়করণের সুযোগ তৈরি করা নয়।

তিনি বলেন, এমন কোনো পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, যা ভবিষ্যতে প্রশাসনে দলীয় আনুগত্যশীল জনবল প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।

ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি

গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁরা এমন একটি প্রশাসন চান, যেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিচয় হবে তাঁর মেধা, যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতা; কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়। রাষ্ট্রের প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হলে নিয়োগ প্রক্রিয়াকেই প্রথমে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে হবে।

নিয়োগে দলীয় পরিচয়, রাজনৈতিক আনুগত্য, আত্মীয়তা, ব্যক্তিগত সুপারিশ কিংবা অর্থের প্রভাবের কোনো স্থান থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, রাষ্ট্রের প্রতিটি নিয়োগ হতে হবে মেধা, যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার ভিত্তিতে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের লেনদেন ও সুপারিশের সংস্কৃতি বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শতভাগ স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুরোনো বৈষম্য, দলীয়করণ ও অনিয়মের পুনরাবৃত্তি জনগণ মেনে নেবে না। তরুণ সমাজের মেধা, শ্রম ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

দেশের চাকরিপ্রার্থী, শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের ন্যায্য দাবি ও অধিকারের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, মেধার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যের অবসান ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই নতুন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad