ভাঙন প্রতিরোধ, সড়ক-বেড়িবাঁধ রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাজিরহাট লঞ্চঘাটসংলগ্ন ভাঙনপ্রবণ এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
রাতের ভাঙনে সড়কের অংশ নদীতেস্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের টানা পানির চাপ ও তীব্র স্রোতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। রাত ৮টার দিকে লঞ্চঘাটের পশ্চিম-উত্তর পাশে ভাঙন শুরু হলে তীব্র স্রোতের টানে পাউবোর ফেলা জিও ব্যাগসহ সড়কের একটি অংশ নদীগর্ভে চলে যায়। রাতভর ভাঙনের পর বুধবার সকালেও স্রোতের তীব্রতা কমেনি।
ভাঙনের তীব্রতায় তীররক্ষায় ফেলা শতাধিক জিও ব্যাগ ধসে নদীতে তলিয়ে গেছে। পাকা সড়কের পিচ ও মাটির অংশও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সড়ক ও নদীর সংযোগস্থলে বড় ধরনের ভাঙন তৈরি হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো ঘরবাড়ির মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে থাকা কবরস্থান থেকে স্বজনদের লাশও অন্যত্র সরিয়ে নিতে হচ্ছে।
স্থায়ী নদীশাসনের দাবিদশমিনা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির লুৎফর রহমান বলেন, হাজিরহাটের মানুষ এখন ঘরবাড়ি ও বসতভিটা নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন। নদীভাঙনে সড়ক ও জিও ব্যাগ নদীতে চলে গেছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, বসতভিটার পাশাপাশি কবরস্থানও রক্ষা করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দ্রুত সড়ক ও বেড়িবাঁধ রক্ষার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।
সাবেক দশমিনা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফকরুজ্জামান বাদল বলেন, হাজিরহাটের ভাঙন এখন শুধু নদীতীরের সমস্যা নয়; এটি মানুষের বসতবাড়ি, যোগাযোগব্যবস্থা, কবরস্থান, মসজিদ ও বাজারকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে। শুধু জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। এ জন্য স্থায়ী ও টেকসই নদীশাসন কার্যক্রম প্রয়োজন। পাউবোকে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
পাউবোর সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থাদশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
মানববন্ধন থেকে স্থানীয়রা পাউবোকে নিয়ম ও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে দ্রুত ও যথাযথভাবে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)