শরীরে টেস্টোস্টেরন ও শুক্রাণু উৎপাদন মস্তিষ্ক ও অণ্ডকোষের মধ্যে থাকা জটিল হরমোন ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। বাইরে থেকে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করলে মস্তিষ্ক অণ্ডকোষকে উদ্দীপিতকারী লুটিনাইজিং হরমোন (এলএইচ) ও ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (এফএসএইচ) উৎপাদনের সংকেত কমিয়ে দিতে পারে।
ফলে অণ্ডকোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে নিজস্ব টেস্টোস্টেরন ও শুক্রাণু উৎপাদন কমে যেতে পারে। অ্যানাবলিক স্টেরয়েডও একই প্রক্রিয়ায় এলএইচ ও এফএসএইচের মাত্রা কমিয়ে শুক্রাণুর ঘনত্ব ও গতিশীলতা কমাতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বীর্যে কোনো শুক্রাণু না থাকার অবস্থাও তৈরি হতে পারে, যাকে অ্যাজুস্পার্মিয়া বলা হয়।
রক্তে টেস্টোস্টেরন বেশি হলেই প্রজনন ক্ষমতা বাড়ে নারক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা এবং শুক্রাণু উৎপাদন এক বিষয় নয়। চিকিৎসকদের মতে, কোনো পুরুষের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অনেক বেশি থাকলেও তার শুক্রাণুর সংখ্যা খুব কম হতে পারে।
বাইরে থেকে টেস্টোস্টেরন গ্রহণকারী কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১ হাজারের বেশি থাকলেও শুক্রাণু উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। তাই টেস্টোস্টেরনকে প্রজনন ক্ষমতা বাড়ানোর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
স্বাভাবিক হতে সময় লাগে কয়েক মাসটেস্টোস্টেরন বা স্টেরয়েড ব্যবহার বন্ধ করলেই প্রজনন ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাভাবিক হয় না। সাধারণত শুক্রাণু তৈরি হতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ দিন সময় লাগে। ফলে হরমোনের প্রভাব থেকে প্রজনন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, স্টেরয়েড বা টেস্টোস্টেরন বন্ধ করার পর শুক্রাণু উৎপাদন রাতারাতি স্বাভাবিক হয় না। কতদিন এবং কী মাত্রায় হরমোনের কার্যক্রম দমিয়ে রাখা হয়েছে, তার ওপর পুনরুদ্ধারের সময় নির্ভর করে। অনেকের ক্ষেত্রে তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাও সম্ভব নাও হতে পারে।
সমস্যা ধরা পড়তে পারে অনেক পরেহরমোনজনিত প্রজনন সমস্যার ক্ষেত্রে সবসময় স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে একজন তরুণ নিয়মিত পেশি বাড়ালেও নিজেকে শারীরিকভাবে সুস্থ মনে করতে পারেন, অথচ তার শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যেতে পারে। অনেক সময় সন্তান নেওয়ার চেষ্টা শুরুর কয়েক বছর পর বিষয়টি ধরা পড়ে।
জিম করা নয়, ঝুঁকি বাড়ায় অনিয়ন্ত্রিত হরমোন ব্যবহারজিমে যাওয়া বা ভারোত্তোলন নিজে প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য সমস্যা নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং ক্রিয়েটিনের মতো উপযুক্ত পরিপূরক ব্যবহার করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যানাবলিক স্টেরয়েড বা চিকিৎসকের পরামর্শবিহীন টেস্টোস্টেরন ছাড়াই পেশি গঠন করা সম্ভব।
ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে টেস্টোস্টেরন চিকিৎসা শুরুর আগে যোগ্য চিকিৎসকের সঙ্গে প্রজনন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। ফিটনেসের লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও শুরু থেকেই বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর, লাইফস্টাইল ডেস্ক, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক