পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা মাথা উঁচু করে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছি। এটি আমাদের সবার জন্য মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়। তাই আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে আমরা আমাদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে রক্ষা করব।’
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইরানের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে জাতিসংঘের এই অধিবেশনকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো হবে। অন্যায় ও অবিচারের মধ্যেও ইরানের জনগণ তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে—এ কথাও প্রতিপক্ষদের স্পষ্টভাবে জানানো হবে।
যুদ্ধের পর প্রথম শীর্ষ ইরানি নেতা যুক্তরাষ্ট্রেইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্ক সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর এই প্রথম কোনো শীর্ষ পর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে যাচ্ছেন। পেজেশকিয়ানই এ সংঘাত শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরকারী সর্বোচ্চ পর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তা।
জাতিসংঘের অধিবেশনে বুধবার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইরানিদের সঙ্গে সাক্ষাতেরও কর্মসূচি রয়েছে।
ইরানি প্রতিনিধিদলে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাচলমান যুদ্ধের মধ্যেও জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে ইরানের মূল প্রতিনিধিদলের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে নিউইয়র্কে তাঁদের চলাচল ও কিছু কেনাকাটার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে পেজেশকিয়ানের যোগাযোগ ও গণমাধ্যম দলের কয়েকজন সদস্যকে ভিসা দেওয়া হয়নি। ইরানি কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র হাবিবুল্লাহ আব্বাসি এটিকে ‘বৈরিতাপূর্ণ’ সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনাতেহরান ও ওয়াশিংটনের উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ছিল এটি। সংঘাতের কারণে এ পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও অনুমোদন ছাড়া জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে পাল্টা অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক করা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভবিষ্যৎও জাতিসংঘ অধিবেশনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র: বাসস/এএফপি, রয়টার্স, এপি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক