ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার দাবি, ইন্টার্নশিপের ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ দেওয়ার পর শিক্ষক তাকে একটি পাল্টা মেসেজ দেন। ওই মেসেজে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দিলে সেটিকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়।
রেজিস্ট্রার দপ্তরে অভিযোগবিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে শিক্ষকের মেসেজে শিক্ষার্থীর দেওয়া ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’কে অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন বলেন, বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার দপ্তরে জানানো হয়েছে।
মুজিবুর রহমানের গত ১৩ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রারের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদন থেকে জানা যায়, ৩১ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিবিএ ও এমবিএর সার্টিফিকেট নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তবে বিভাগীয় প্রধান তার আবেদনে স্বাক্ষর করেননি। তাকে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ থাকায় রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে সার্টিফিকেট উত্তোলনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
শিক্ষার্থীর দাবি, অভিযোগটি কী বিষয়ে এবং কেন তার সার্টিফিকেট আটকে রাখা হয়েছে—তা জানতে লিখিত ব্যাখ্যা চাইলেও তাকে কোনো লিখিত কারণ জানানো হয়নি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে কোনো লিখিত নোটিশও দেওয়া হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।
তদন্ত কমিটির কাজ চলছেসার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তার লিখিত জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. মো. এমদাদুল হককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ে তা জমা হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হওয়ায় কমিটির সময় কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
‘অনেক সার্কুলারে আবেদন করতে পারিনি’মুজিবুর রহমান বলেন, তার মাস্টার্সের পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশের পর সার্টিফিকেট প্রস্তুত হয়ে যাওয়ায় তিনি বিবিএ ও এমবিএ—দুই সার্টিফিকেটই নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। কিন্তু কোনো সার্টিফিকেটই পাননি।
তার ভাষ্য, সার্টিফিকেট না পাওয়ায় তিনি বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারেননি। এ বিষয়ে সমাধানের জন্য প্রায় এক মাস কুমিল্লায় অবস্থান করে রেজিস্ট্রার দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ এবং উপ-উপাচার্যের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তবে কোনো সমাধান পাননি।
তিনি আরও বলেন, সার্টিফিকেট কেন আটকে রাখা হয়েছে এবং কবে তা পাবেন—এ বিষয়ে এখনো তাকে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্যমার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, সার্টিফিকেট প্রদান বা বিভাগীয় ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার বিষয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, সার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়টি জানতে বিভাগীয় প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং পরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী এখন যেকোনো সময় সার্টিফিকেট নিতে পারবেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক