মহানবমী: সম্প্রীতি, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রত্যাশা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ সকাল
  • ৭২১৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg প্রতীকী ফটো।

মহানবমী: সম্প্রীতি, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রত্যাশা

সম্পাদকীয় | প্রথম দর্পণ

শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমী। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা ও উৎসবের আবহে এই দিনটি শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে নয়, বরং সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তায় সমগ্র সমাজের কাছেও তাৎপর্যপূর্ণ। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার—এই চেতনাকে ধারণ করেই গড়ে উঠুক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ বহু ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষের সম্মিলিত আবাসভূমি। এ দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক কাঠামো বহুত্বের সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন। সুখে-দুঃখে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো, উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই আমাদের সামাজিক বন্ধনের শক্তি। মহানবমীর তাৎপর্য সেই বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানায়।

কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, সমাজে এখনো ধর্মীয় বিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা, গুজব ও বিভাজনমূলক বক্তব্যের ঝুঁকি রয়েছে। কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, কখনো ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে উসকানি—এসবের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা করা হয়। এর ফলে শুধু একটি সম্প্রদায় নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় গোটা সমাজের শান্তি, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক আস্থা। তাই উৎসবের সময়ে সম্প্রীতির কথা বলার পাশাপাশি সারা বছর সেই চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মের কারণে কেউ অবহেলিত হবেন না, সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ—কোনো পরিচয়ই নাগরিক অধিকারের মাপকাঠি হবে না। আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে, অপরাধী যে-ই হোক বিচার নিশ্চিত হবে এবং রাষ্ট্র প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তায় সমান দায়িত্ব পালন করবে।

মহানবমীর এই শুভক্ষণে আমাদের প্রত্যাশা—ধর্মীয় সম্প্রীতি যেন কেবল উৎসবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; তা যেন প্রতিদিনের আচরণ, সামাজিক মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার বন্ধনে আবদ্ধ হোক বাংলাদেশ। শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সার্থক হোক মহানবমীর চেতনা।

প্রথম দর্পণ মনে করে, একটি অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটাই হোক মহানবমীর অঙ্গীকার, এটাই হোক আগামীর বাংলাদেশের পথচলা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad