দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ দুপুর
  • ৩৫৬১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বন্ড সুবিধার কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি, আমদানি-রপ্তানিতে নানা অনিয়ম

বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি, রপ্তানির তথ্যে অসংগতি এবং মূল্য সংযোজনের শর্ত লঙ্ঘনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)।

সোমবার (২ নভেম্বর) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তদন্তে রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া দুই প্রতিষ্ঠান হলো—রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ও লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেড। এর মধ্যে রিয়াজ নিটওয়্যারের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

এনবিআর জানায়, সিআইসির তদন্ত দল প্রতিষ্ঠান দুটির কারখানা ও গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাঁচামালের মজুদ যাচাই করে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানির তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।

রিয়াজ নিটওয়্যারে ৯৪ কোটি টাকার বেশি ফাঁকি

তদন্তে দেখা যায়, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) আওতায় বন্ড সুবিধায় ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করে। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২৩৭ টন কাপড় বা মোট আমদানির ৭৮ শতাংশ কারখানার গুদামে পাওয়া যায়নি। রপ্তানির হিসাবেও এসব কাপড় ব্যবহারের কোনো তথ্য মেলেনি।

সিআইসির তদন্তে উঠে এসেছে, বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে এসব কাপড় সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি নথিতে সুতা ও নিট কাপড়ের হিসাব পাওয়া গেলেও আমদানি করা ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের বড় অংশের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

তদন্ত অনুযায়ী, যেসব ৩১টি ইউডির বিপরীতে কোনো রপ্তানি হয়নি, সেগুলোর ৩০টিতেই আমদানি করা কাপড়ের পুরোটা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আংশিক রপ্তানি হওয়া ১০টি ইউডির ক্ষেত্রেও আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৫৩ শতাংশের হিসাব পাওয়া যায়নি।

কারখানা পরিদর্শনে ৬৯ হাজার ৩৮২ কেজি সুতা, ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৭ পিস তৈরি পোশাক এবং মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৫০ কেজি ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া কাপড়ের পরিমাণ মোট আমদানির মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ।

অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি শনাক্ত করেছে এনবিআর।

লিশা টেক্সের বিরুদ্ধেও একাধিক অনিয়ম

অন্যদিকে, লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় কারখানায় পাওয়া যায়নি। তদন্তে এসব কাপড় বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রির তথ্য উঠে এসেছে। শুধু এ খাতেই প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি শনাক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনুমোদনের তুলনায় বেশি পোশাক রপ্তানি এবং চুক্তিমূল্যের চেয়ে কম রপ্তানিমূল্য দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউডির বাইরে স্থানীয় উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ না করার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চার লাখের বেশি পিস পোশাক তৈরির আনুষঙ্গিক কাঁচামাল অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়েছে। এসব পণ্যের বিপরীতে মূসকও পরিশোধ করা হয়নি। এ ছাড়া লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহের মাধ্যমে মূসক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

এসব অনিয়মের মাধ্যমে লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে মোট ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে সিআইসি।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ এবং রাজস্ব ফাঁকি শনাক্তে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad