যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতিতে ছাড়, নির্দিষ্ট পরিচর্যাকর্মীরা ৫ বছরেই পাবেন স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ দুপুর
  • ২৬৭৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বছরে ২৫ হাজার পাউন্ড আয় ও ২০২৫ সালের মে মাসের আগে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের শর্ত; অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য অপেক্ষা ১০ বছর

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন এনে বিদেশি পরিচর্যাকর্মীদের (কেয়ার ওয়ার্কার) জন্য পাঁচ বছরেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী পরিচর্যাকর্মীরা আগের নিয়মেই পাঁচ বছর পূর্ণ হলে স্থায়ী বসবাসের (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন—আইএলআর) আবেদন করতে পারবেন। এর আগে তাঁদের জন্য অপেক্ষার সময় ১৫ বছর করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত অভিবাসন নীতিতে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। লেবার পার্টির একাধিক আইনপ্রণেতার বিরোধিতা ও সমালোচনার মুখে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব বিদেশি পরিচর্যাকর্মী বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করেন এবং ২০২৫ সালের মে মাসের আগে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন, তাঁরা পাঁচ বছর পূর্ণ হলে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য যোগ্য হবেন। নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে তাঁরা আরও পাঁচ বছরের ভিসার আবেদন করতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগও থাকবে।

অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য অপেক্ষা ১০ বছর

যুক্তরাজ্য সরকারের নতুন পরিকল্পনায় অধিকাংশ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের কম আয় করা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম কার্যকর হতে পারে।

তবে উচ্চ বেতনভোগী ও বিশেষ কিছু পেশাজীবীর জন্য ছাড় রাখা হয়েছে। বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করেন—এমন অভিবাসীদের পাশাপাশি চিকিৎসক ও শিক্ষকের মতো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অবদান রাখা ব্যক্তিরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। আর বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করা উচ্চ করদাতাদের জন্য এ সময়সীমা তিন বছর নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে কিংবা অনিয়মিত পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা শরণার্থীদের জন্য কঠোর বিধান আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত হলে তাঁদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে ২০ বছর এবং এসবের কোনোটিতে যুক্ত না থাকলে ৩০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

রাজনৈতিক চাপের মুখে নীতিতে পরিবর্তন

সোমবার হাউস অব কমন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি স্বয়ংক্রিয় অধিকার হওয়া উচিত নয়; বরং এ জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তবে করোনা মহামারির পর যুক্তরাজ্যের প্রয়োজনের সময় যেসব পরিচর্যাকর্মী দেশটিতে এসেছিলেন, তাঁদের অবদান বিবেচনায় নিয়েই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

পরিচর্যাকর্মীদের পাঁচ বছরের নিয়ম বহাল রাখার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি। দলটির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপের অভিযোগ, লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার কারণেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এতে করদাতাদের ওপর কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে শাবানা মাহমুদের দাবি, নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমেও সরকার বিপুল অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যয়-প্রভাব পর্যালোচনা পরে প্রকাশ করা হবে।

ব্যয় কমার হিসাব সরকারের

গত মার্চে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার বিদেশি পরিচর্যাকর্মী স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন। তাঁদের জীবনকালের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪২০ কোটি পাউন্ড। প্রাপ্তবয়স্ক নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের হিসাব যুক্ত করলে এ ব্যয় বেড়ে ৯৫০ কোটি পাউন্ডে দাঁড়াতে পারে।

নতুন পরিকল্পনায় আগের নিয়মে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ হারাতে পারেন—এমন অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৯৯ হাজার থেকে কমে ৫ লাখ ১৭ হাজারে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি অভিবাসীদের ওপর প্রভাব

যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেও নতুন অভিবাসন নীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তাঁদের একজন বার্মিংহামে কর্মরত বাংলাদেশি রাঁধুনি আশফাক জুনেদ। বিবিসিকে তিনি জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০৩৩ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়ার কথা শুনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নিট অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যায় ২৬ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছেন। আর ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে ১৩ লাখ থেকে ২২ লাখ মানুষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের মধ্যম হিসাব ১৯ লাখ।

এদিকে নতুন অভিবাসন পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন। রিফিউজি কাউন্সিলের ইমরান হোসেনের মতে, অনিয়মিত পথে যুক্তরাজ্যে আসা এবং কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত নন—এমন শরণার্থীদের স্থায়ী বসবাসের জন্য ৩০ বছর অপেক্ষার প্রস্তাব অন্যায্য ও বাস্তবায়ন-অযোগ্য।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad