জ্বর কমলেই বিপদ কাটে না, ডেঙ্গুর সংকটকালে যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৭ বিকাল
  • ৯০৫১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ডেঙ্গু জ্বর কমে যাওয়াকে অনেকেই সুস্থতার লক্ষণ মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে জ্বর কমার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে তা গুরুতর ডেঙ্গুর সতর্কসংকেত হতে পারে। এসব লক্ষণ অবহেলা করলে রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই জ্বর কমে গেলেও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখা এবং বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর সংকটকাল সাধারণত জ্বর শুরুর তৃতীয় থেকে সপ্তম দিনের মধ্যে দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমার সময় এ ঝুঁকি বেশি থাকে।

শ্বাসকষ্ট ও কাশি অবহেলার সুযোগ নেই

ডেঙ্গুতে শ্বাসকষ্টের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। গুরুতর ডেঙ্গুতে রক্তনালি থেকে তরল বেরিয়ে বুকের গহ্বরে জমতে পারে। এ অবস্থাকে প্লুরাল ইফিউশন বলা হয়। ফুসফুসের চারপাশে তরল জমলে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। এ ছাড়া ফুসফুসে তরল জমা, রক্তক্ষরণ, হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা কিংবা একই সময়ে নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণ থেকেও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত শিরাপথে স্যালাইন বা তরল দেওয়ার কারণেও শরীরে তরল জমে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

কাশি ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট প্রধান লক্ষণ নয়। তবে জ্বরের সঙ্গে কাশি ও শ্বাসকষ্ট থাকলে ফুসফুসের সংক্রমণসহ অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। তাই এসব উপসর্গকে সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়।

তীব্র পেটব্যথা গুরুতর ডেঙ্গুর সতর্কসংকেত

ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির তীব্র বা একটানা পেটব্যথা দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে এর সঙ্গে বারবার বমি, পেট ফুলে যাওয়া, রক্তবমি, কালো পায়খানা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

এসব লক্ষণ শরীরে তরলের ভারসাম্যহীনতা, রক্তক্ষরণ কিংবা গুরুতর ডেঙ্গুর ইঙ্গিত দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যেসব লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতালে নিতে হবে

ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে—

১. শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া।

২. তীব্র ও একটানা পেটব্যথা।

৩. বারবার বমি কিংবা খাবার ও তরল গ্রহণ করতে না পারা।

৪. নাক, মাড়ি বা শরীরের অন্য স্থান থেকে রক্তপাত।

৫. অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, অস্থিরতা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

৬. হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।

৭. প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।

বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা গুরুতর রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। বাড়িতে বসে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কিংবা নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

প্লাটিলেট কমলেই কি গুরুতর ডেঙ্গু?

ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা বিবেচনা করলেই হয় না। রোগের দিন, শারীরিক অবস্থা, রক্তচাপ, প্রস্রাবের পরিমাণ, হেমাটোক্রিট এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল একসঙ্গে মূল্যায়ন করতে হয়।

প্লাটিলেট কমে গেলেই রোগীর অবস্থা গুরুতর—এমন ধারণা সঠিক নয়। আবার প্লাটিলেট তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও রোগীর শরীরে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি।

তরল ও ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর জন্য পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা না করে অতিরিক্ত স্যালাইন বা তরল দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট কিংবা শরীরে তরল জমার লক্ষণ দেখা দিলে তরল ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কতটুকু তরল দিতে হবে, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

জ্বর ও ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেনসহ নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (এনএসএআইডি) এড়িয়ে চলতে হবে। এসব ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

জ্বর কমলেও পর্যবেক্ষণ জরুরি

ডেঙ্গুতে সুস্থতার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিপদের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা। জ্বর কমে যাওয়ার পর রোগীকে বিপদমুক্ত মনে করা ঠিক নয়। শ্বাসপ্রশ্বাস, পেটব্যথা, বমি, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই ডেঙ্গুর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সহায়ক।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad