অধিকার প্রতিবেদনে উদ্বেগ: নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ত্রৈমাসিক চিত্র

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২০ মে ২০২৬, ১১:২১ রাত
  • ২১৭৮৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

অধিকার প্রতিবেদনে উদ্বেগ: নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ত্রৈমাসিক চিত্র:

জানুয়ারি–মার্চ ২০২৬ সময়কালের প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত হত্যা, সাংবাদিক নির্যাতন, কারাগারের অবস্থা ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে

ঢাকা, ২০ মে ২০২৬:

মানবাধিকার সংস্থা অধিকার প্রকাশিত ২০২৬ সালের জানুয়ারি–মার্চ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকোচন এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও অভিযোগ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। ভোটের পর ফলাফল গণনা ও প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এবং বিভিন্ন আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট দায়ের করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাও ঘটে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগ

প্রতিবেদনে জানানো হয়, আলোচ্য সময়ে অন্তত কয়েকটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন, কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা এবং আটক ব্যক্তিদের প্রতি আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সাংবাদিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। তিন মাসে বহু সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

সীমান্ত পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী দেশের প্রসঙ্গ

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর নির্যাতন, অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ-ইন’ সংক্রান্ত কিছু অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবেশী দেশের নীতিকে কেন্দ্র করে কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হলেও সেগুলো প্রতিবেদনভিত্তিক দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইন সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মানবাধিকার ও বিচার সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আইন হিসেবে কার্যকর না হওয়ায় সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও মত দেওয়া হয়।

সুপারিশ

অধিকার সংস্থা রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, কারাগারের অবস্থার উন্নয়ন, সাংবাদিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছে।

এএস




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad