ভারতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা, জানাল মোদি সরকার

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩ দুপুর
  • ৬২৯০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার। ভারতীয় সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে সরকারের পক্ষ থেকে এ অবস্থান জানানো হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, প্রত্যর্পণ এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

কমিটিকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবিক নীতির অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতের দীর্ঘদিনের নীতি অনুযায়ী, দেশটির ভূখণ্ড কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

বৈঠকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। এ সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধ দেশটির প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে সুপারিশ

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় রাখতে সংবেদনশীল বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভিসা কার্যক্রম সীমিত থাকায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটক ভিসা স্থগিত করার প্রায় দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ২৮ জুন ভারত পুনরায় পর্যটক ভিসা চালু করে।

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের তাগিদ

প্রতিবেদনে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরুর সুপারিশ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব

সংসদীয় কমিটি আরও বলেছে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রাখা উচিত।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad