দুর্নীতি দমনে ব্যর্থ হয়ে সরকার দেশ পরিচালনার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৩ দুপুর
  • ৪০৬৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমদ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে পাঁচ মাসেও দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি, বরং তা বেড়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি দুর্নীতি না চান, তাহলে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে দুর্নীতি কীভাবে চলতে পারে। তার দাবি, সরকারের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তিই প্রমাণ করে তারা দেশ পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি হারিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সমঝোতার ভিত্তিতে অর্থ আদায়কে চাঁদাবাজি বলা যাবে না—এ ধরনের বক্তব্য এবং চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে সরকারি দলের নেতাদের মন্তব্যকে তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগ তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, চাঁদাবাজদের কারণে শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর করা হচ্ছে এবং যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডে সরকারি দলের লোকজন জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের ভেতরেই সমস্যা রয়েছে। তাই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি কোনো একক দলের আন্দোলন ছিল না; বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। তাই এর অর্জন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একার দাবি হতে পারে না। তিনি জুলাইয়ের শহীদদের জাতির সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের পরিবারকে যথাযথ সম্মান ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা অবশ্যই সম্মান করতে হবে। জনগণের রায় অস্বীকার করা মানে জনগণের মতামতকে অসম্মান করা।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের শপথ নিতে হবে—কেউ অন্যায় করবে না এবং অন্যায়কে প্রশ্রয়ও দেবে না।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad